
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সরব রয়েছে বিএনপি। কাউন্টার কর্মসূচিতে পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও। দেশের প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এতদিন রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও তা তৃণমূলে গড়িয়েছে আজ।
এর আগে শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে তৃণমূল পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এরপর গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দেশের প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতিক মহলে।
ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার পদযাত্রা করবে বিএনপি। চলমান যুগপৎ আন্দোলনের ষষ্ঠ কর্মসূচি হিসেবে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এই পদযাত্রা করছে তারা। বিএনপির সমমনা দলগুলোও একই দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে একযোগে।
এদিকে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ‘শান্তি সমাবেশ’ ডেকে রাজধানীর রাজপথে থেকেছে আওয়ামী লীগ। তবে এবার শুধু রাজধানীতে নয়, শান্তি সমাবেশ ডাকা হয়েছে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মতে— বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রত্যেক ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশ নিয়ে মাঠে থাকবেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর কর্মসূচি কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেন কেউ ঘোলা করতে না পারে এজন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীতে মিছিল ও সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে দলটি। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করতে চায় তারা।
প্রত্যেক ইউনিয়নে বিএনপির পদযাত্রা
তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং ১০ দফা দাবি আদায়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, দেশের সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে আজ (শনিবার) পদযাত্রা হবে। সকাল ১০টা থেকে পদযাত্রা শুরু হবে। তবে প্রতিটি ইউনিটকে সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে নিজেদের সুবিধামতো সময়ে পদযাত্রা করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা সম্ভব হলে তাদের নিজ নিজ এলাকার পদযাত্রায় উপস্থিত থাকবেন।
প্রিন্স আরও জানান, নির্ধারিত সময়ে প্রতি ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে প্রত্যেক ইউনিয়নের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নেতাকর্মীরা সমবেত হবেন। এরপর পদযাত্রা শুরু হবে।
দলীয় সূত্র মতে— ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করেছেন তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে। যেকোনো মূল্যে পদযাত্রা সফল করার অঙ্গীকার নিয়েই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
মাঠে থাকবে বিএনপির সমমনা দলগুলো
যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির অন্যতম মিত্র জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি) রাজধানীতে পদযাত্রা করবে। বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা করবে গণতন্ত্র মঞ্চ। বেলা সাড়ে ৩টায় ভাটারার বাঁশতলা থেকে বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত পদযাত্রা করবে এলডিপি। এছাড়া কয়েকটি জেলায় পদযাত্রা করার কথা গণফোরামের (একাংশ)।
যেসব দাবিতে মাঠে থাকবে জামায়াতে ইসলামী
পাঠ্যক্রম সংশোধন, বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। রাজধানীতে বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে মগবাজার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলের
অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদনও করা হয়েছে।
এদিকে নতুন পাঠ্যবই বাতিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট সমাধানের দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণসমাবেশ ও মিছিল করবে খেলাফত মজলিস।
ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বছরব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক অপরাজনীতি ঠেকাতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ধারাবাহিক সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তি সমাবেশ করবে দলটি। কেন্দ্র, জেলা, মহানগর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসব সমাবেশে অংশ নেবেন।
এর আগে এক বিবৃতিতে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও দেশবাসীকে শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
