ওমর ফারুক (শামীম), ইউরোপ প্রতিনিধি,
“বেস্ট অফ বাংলাদেশ ইন ইউরোপ ২০২৫” প্রদর্শনী ১৭-১৮ এপ্রিল নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামের বিখ্যাত বেউর্স ভ্যান বার্লাজে সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই ইভেন্টটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসাবে বিবেচিত হবে বলে সবার ধারণা।
প্রদর্শনীটির আয়োজক ছিল বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ এবং সহযোগী আয়োজক হিসাবে ছিল ‘PDS Limited, সিটি ব্যাংক, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। পুরো প্রদর্শনীতে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ এম্বাবাসি।
১৫০০+ ইউরোপীয় বিনিয়োগকারী, ক্রেতা ও অংশীদার নিয়ে প্রদর্শনীতে ৮ টি খাতে মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ৮টি খাত ছিল গার্মেন্টস, চামড়া, পাট ও হস্তশিল্প, আইটি, কৃষি খাদ্য, পোল্ট্রি ও বীজ।
এই প্রদর্শনীর প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইন ডিজাইনের প্রদর্শনী, বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ, শিল্প প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উৎযাপন।
দুই দিনের এই সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন; দক্ষিণ এশিয়ার ইউরোপীয় বহিরাগত কর্ম পরিষেবা (ইইএএস) প্রধান চার্লস হোয়াইটলি; নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মুহাম্মদ; নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক কর্পোরেশনের মহাপরিচালক প্যাসকেল গ্রোটেনিয়াস; পিডিএসের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান পলক শেঠ এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বাংলাদেশে সবকিছু নিখুঁত না হলেও, ইতিবাচক অনেক দিক রয়েছে। আমরা গ্রিন চ্যানেল ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছি যা বিনিয়োগ সহজ করেছে।
ইইউ দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান চার্লস হোয়াইটলি বলেন, “বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক মজুরি, উদ্ভাবন এবং ডিজিটালাইজেশন রপ্তানি বৈচিত্র আনতে সহায়ক। ইইউ শ্রমঅধিকারসহ সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে”।
নেদারল্যান্ডস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পাসকাল গ্রোটেনিয়াস বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত পরিশ্রম, উদ্যোক্তা মনোভাব ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে পরিচালিত হয় যা ভবিষ্যতের ব্যাবসার মডেল হতে পারে। ডাচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী”।
প্রথম বেস্ট অফ বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের ৪ ও ৫ তারিখ আমস্টারডামের গাশোডার ওয়েস্টারগাস ভেন্যুতে। পোশাক, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতের ৩৪টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছিল।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশিরা মনে করেন এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বিশেষ করে বাংলাদেশের পাট, ওষুধ, আইটি এবং কৃষি খাত ইউরোপীয় বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
প্রদর্শনীতে আংশ নেওয়া এক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, এটি একটি চমৎকার আয়োজন ছিল। ওনি আয়োজকদের কাছে অনুরোধ করে বলেন আশা করি এই আয়োজন শুধু নেদারল্যান্ডস নয় বরং সময় ও সুযোগ করে ইউরোপের সকল দেশে যদি আয়োজন করা যায় তাহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের একটা পজেটিভ ধারণা জন্মাবে এতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা উপকৃত হবে এবং দেশে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়বে।
