পর্তুগালের রাজধানীর লিসবনে জাল নথি তৈরি, অবৈধ অভিবাসন, মিথ্যাচারসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দেশটির সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গঠিত জাতীয় ইউনিট (ইউএনসিটি) এবং জুডিশিয়াল পুলিশ (পিজে)।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা শত শত অভিবাসীর জন্য জাল নথি তৈরি করেছে এবং তার বিনিময়ে মোট প্রায় ২০০,০০০ ইউরো (প্রায় ২ কোটি টাকা) অবৈধভাবে উপার্জন করেছে।
জুডিশিয়াল পুলিশ (পিজে) বিবৃতি দিয়ে বলেছে, সন্দেহভাজনরা তাদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ ২০২০ সালের প্রথম দিক থেকে শুরু করেছে। তারা অবৈধ অভিবাসীদের জালিয়াতি মাধ্যমে নিয়মিতকরণ করবে বলে প্রচার করে আসতেছিল। এছাড়াও ভুয়া কর্মসংস্থান চুক্তি (contrato de trabalho) ভুয়া রেসিডেন্স পেপার (Junta) সহ অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকা উপার্জন করেছে।
আটককৃতদের মধ্যে একজন ৫৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি পুরুষ এবং একজন ৪৮ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহিলা ছিলেন। সাময়িকভাবে জুডিশিয়াল পুলিশ (পিজে) তাদের নাম প্রকাশ করেন নি।
বাংলাদেশীদের এমন নথি জালিয়াতি নতুন নয় এর আগেও এমন অভিযোগ হয়েছে অনেক বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে কিন্তু গ্রেপ্তার হয়েছে এই প্রথম।
গত ২০২০ সালে নথি জালিয়াতির অভিযোগে পর্তুগাল ইমিগ্রেশন পুলিশ (সেফ) সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেন বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত দোকান ও অফিসে। যার অভিযোগ ছিলো পাহাড় সমান, আর এটাই ছিলো প্রথম কোন বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে নথি জালিয়াতির অভিযোগের অভিযান।
এছাড়াও Little Bangladesh হিসাবে পরিচিত পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের মারতিম মুনিজে অব্যবস্থাপনা, একবাসায় অনেক লোক, অপরিষ্কার বাসা,রাজনীতি নিয়ে এখানে মারামারি করা, ড্রা*গ ব্যবসাসহ নানান খবরের সংবাদ হচ্ছে বাংলাদেশিরা।
পর্তুগালে বসবাসরত একজন বাংলাদেশির সাথে কথা বলার পর তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, এক বছর আগেও এমন অবস্থা ছিল না। বাংলাদেশীরা কঠোর পরিশ্রমী, সৎ হিসাবেই পরিচিত ছিল পর্তুগালে। তখন বাংলাদেশী বললে গর্ব নিয়ে বলতাম আর এখন বাংলাদেশী বলতে হয় লজ্জা নিয়ে।
পর্তুগালে ৩০হাজারের মত বাংলাদেশি আছে কিন্তু এই অপরাধ ও অপবাদ গুলোর সাথে ০.৫% ও জড়িত আছে কিনা সন্দেহ।
তিনি লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, এই ০.৫% এর জন্যই আমাদের লজ্জিত হতে হচ্ছে যেমন এক বালতি দুধে এক ফোটা মুত পড়লেই পুরো দুধ নষ্ট হয়ে যায়।
পর্তুগালে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা আরেক বাংলাদেশী জানান ডান পন্থি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক নানান অভিযোগে জর্জরিত বাংলাদেশীরা।তার মধ্যে এমন নথি জালিয়াতি অভিযোগ সত্যি খুবই দুঃখজনক আমাদের জন্য । কিছু প্রবাসী বাংলাদেশী লোভে পরে এসব জালিয়াতিতে জড়িয়ে পরছে যা বাংলাদেশ কমিউনিটি কে হুমকিতে ফেলবে।
পর্তুগালে বাংলাদেশীরা সুনামের সাথে বিভিন্ন ব্যবসা করে আসলেও গুটিকয়েক মানুষের লোভের জন্য বাংলাদেশ কমিউনিটি আজ হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। অচিরেই সকল অসাধু মানুষদের কমিউনিটির মুখোমুখি করে বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন পর্তুগালে বসবাস করা অনেক বাংলাদেশী
