ওমর ফারুক (শামীম), ইউরোপ প্রতিনিধি:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) গত ১৬ই এপ্রিল বুধবার সাতটি দেশকে নিরাপদ দেশ হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে, যার ফলে এই দেশ গুলোর নাগরিকদের ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল আশ্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পুর্ণ করে যারা আশ্রয়ের জন্য বিবেচিত হয়নি তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এর ফলে বিগত সময়ে ইউরোপের দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা প্রবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ হবে। পাশাপাশি নতুন করে ইইউ-ভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয় চাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্প্রসারিত তালিকায় কসোভো, বাংলাদেশ, কলম্বিয়া, মিশর, ভারত, মরক্কো এবং তিউনিসিয়া’কে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই দেশের নাগরিকদের আবেদন প্রক্রিয়া এখন তিন মাসের মধ্যে সমাধান করা হবে যা আগে ছিল ৬ মাস। এই প্রস্তাবটি ২০২৩ সালে গৃহীত ইইউ অভিবাসন চুক্তির অংশ যা ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর করা হবে।
ইইউ এর পক্ষ থেকে বলা হয় ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপে ২৫% অবৈধ অভিবাসী কমেছে।
দিন দিন ইউরোপে ডানপন্থী দল গুলো জনপ্রিয়তা বাড়তেছে এবং তারা সরকার গঠন করতেছে। এই ডানপন্থী সরকার গুলো নিয়মিত ভাবে ইইউ’কে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে এই অবৈধ অভিবাসীদেরকে নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
এইদিকে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো মধ্যে জার্মান, ইতালি ফ্রান্স মনে করে করে যে এতে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সহজ হবে, দ্রুত নিষ্পত্তির ফলে অভিবাসনের চাপ কমবে এবং নিরাপদ দেশ ঘোষণার মাধ্যমে ভুয়া আশ্রয় প্রার্থীদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
তবে এই আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ মানবাধিকার সংগঠন গুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যথাযথ ভাবে খোজ খবর না নিয়ে অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিরোধীমতের সাংবাদিক ব্যক্তিবর্গ সহ অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সহ কয়েকটি দেশের সাথে এই অভিবাসী ফেরত পাঠানোর চুক্তি সম্পুর্ন হয়েছে।
এই নিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে যারা বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন কারন আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানো হতে পারে।
এই দিকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে একজন ইইউ কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পর জানা গেল ইইউ মনে করে বাংলাদেশে এখন এমন পরিস্থিতি নাই যা তার দেশের জনগণের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন গুলো এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
