
ওমর ফারুক (শামীম), ইউরোপ প্রতিনিধি: সময়ের সাথে পুরো পৃথিবীটাই যখন পরিবর্তনশীল তখন এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে মানুষকে পরিবর্তিত হতে হয়। পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানুষ যদি পরিবর্তিত হতে না পারে তবে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে তাই মানুষ প্রতিনিয়ত নিজেকে পরিবর্তন করে।
এই পরিবর্তনের পিছনে সবচেয়ে বড় হাত হল প্রযুক্তির। প্রযুক্তি ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে এবং দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। যা সমাজ, ব্যবসা এবং ব্যক্তি জীবনের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এক সময়ের হাতের লেখা পাসপোর্টের যুগ পেরিয়ে আমরা প্রবেশ করেছিলাম মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) যুগে। প্রযুক্তির ক্রমাগত বিকাশে আজকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও যেন পুরোনো হয়ে গেছে। সেই যায়গা দখল করে নিচ্ছে ই-পাসপোর্ট (E-passport)।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পর্তুগাল প্রবাসী সকল বাংলাদেশিদের প্রানের দাবি ছিল পর্তুগালে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করার। এই নিয়ে অনেক দিন ধরে তারা বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন এবং পররাষ্ট্র/স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাবী জানিয়ে আসছিল।
পর্তুগালে ই-পাসপোর্ট সেবার প্রয়োজনীয়তার অনেক গুলো যৌক্তিক দাবীর মধ্যে একটি উল্লেখযৌগ্য দাবী ছিল হারানো ই-পাসপোর্ট নিয়ে। যারা বাংলাদেশ থেকে ই-পাসপোর্ট নিয়ে পর্তুগাল সহ ইউরোপের অন্যদেশে এসে পরে পর্তুগাল এসেছেন এবং কোন কারনে বা দূর্ভাগ্যবসত পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছেন তারা পড়েছেন জটিলতায়। প্রবাসীদের প্রধান পরিচয় বহন করে তার পাসপোর্ট। অনেকে ই-পাসপোর্ট হারিয়ে এই পরিচয় সংকটে ভুগতেছেন।
ই-পাসপোর্ট সেবা এত দিন না থাকায় যারা ই-পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছেন তারা তাদের প্রবাস জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।
পর্তুগাল প্রবাসীদের যৌক্তিক দাবীর সাথে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন সবসময় একাত্মতা প্রকাশ করে খুব শীঘ্রই এই সেবা পর্তুগালে চালু করার বেপারে যথেষ্ট আন্তরিক ছিল এবং নিরলস ভাবে চেষ্টা করে আসছিল।
অবশেষে, ১২ জুলাই ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন এ শুভ উদ্বোধন হল ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের অংশ হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবার লক্ষ্যে ২৭তম দেশ হিসেবে ইউরোপের দেশ পর্তুগালে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাননীয় সচিব মো: আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরি। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন এর কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির ব্যক্তিবর্গ।
ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে অতিথিগন ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই দূতাবাস পরিদর্শন করেন।
ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ায় পর্তুগাল প্রবাসী সকল বাংলাদেশিদের মনে এক ধরনের খুশি ও স্বস্তির হাওয়া বিরাজ করতেছে।
পর্তুগালে ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম চালু প্রসঙ্গে ফেনীর ফুলগাজী থানার দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ হোসাইন (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, লায়ন্স ক্লাব অব ফেনী গ্লোরিয়াস & লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল) বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন এর এই কার্যক্রম কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সহ ইউরোপ ও উন্নত বিশ্বের সকল বিমানবন্দরে ই-গেট রয়েছে। ই-পাসপোর্ট থাকলে খুব দ্রুত সময়ে ই-গেট ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন শেষ করা যায়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সময় অপচয় করতে হয় না। হোসাইন বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন ও বাংলাদেশ কমিউনিটির মধ্যে যারা এই সেবা চালুর জন্য ভূমিকা রেখেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান।
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে সকল পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশীরা আনন্দঘন কমেন্টে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতেছে। তাদের একজন কমেন্ট করেন, অবশেষে আশা পূরণ হল।
