নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গত ২৯ মার্চ জামান (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজের ঘটনার প্রেক্ষিতে তার ছোটভাই মোঃ জাকির হোসেন (৪২) নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ৩ দিন পর গত ৩১ মার্চ সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন মাওরাদী এলাকায় হাত-পা বাঁধা ও দুই চোখ উপড়ে ফেলা অবস্থায় জামান এর লাশ পাওয়া যায়।
পরে নিহত জামান এর ছোটভাই মোঃ জাকির হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০২।
জানা গেছে, র্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। মামলা পরবর্তী সময়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হলেও নিহত জামান এর নৃসংশ্য হত্যাকান্ড সম্পর্কে ধোঁয়াশা কাটেনি। তাই র্যাব-১১ এর বিশেষ গোয়েন্দা দল এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে।
জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস নিবিড় তদন্তের পর গত কয়েদিন যাবৎ বেশ কয়েকটি স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ১৩ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন নাগেরচর এলাকা হতে মূল হত্যাকারী মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩২)’কে আটক করা হয়।
গ্রেফতারের পরবর্তীতে আসামীকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, এই নৃসংশ্য হত্যাকান্ডের সাথে সাইফুল জড়িত এবং তার পরিকল্পনায় ও কয়েকজন সহযোগীদের পরস্পর যোগসাজসে জামানকে হত্যা করেছে।
তার দেয়া তথ্য মতে ঘটনায় জড়িত অপর এক সহযোগী আসামী মোঃ বাদশা (৩০)’কে ঐদিন রাত ১১৩০ ঘটিকার সময় বগাদি বাজার হতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত হলো, মোঃ সাইফুল ইসলাম এর বাড়ী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন নাগেরচর এবং মোঃ বাদশা এর বাড়ী বগাদি এলাকায়।
নিহত মোঃ জামান পেশায় ছিলেন একজন অটোরিক্সা চালক।
গ্রেফতারকৃতদের দেয়া জবানবন্দি থেকে জানা যায় যে, তারাই ভিকটিম জামানকে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন মাওরাদী এলাকায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন করে এবং গামছা দ্বারা নাক-মুখ বেঁধে ছুরি দিয়ে গলায় খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে এবং তার লাশ কলাবাগানে ফেলে দিয়ে আসে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আড়াইহাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
