গাজীপুর প্রতিনিধি
শ্রীপুরের অদূরে কাওরাইদ এলাকা। কাওরাইদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অবস্থিত। এ কেন্দ্রটিতে এক সময় স্থানীয় লোকজনসহ আশপাশের লোকজন সেবা নিয়েছে। এক সময় কাওরাইদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে শত শত লোক দিনে ও রাতে আসত। আজ পরিত্যাক্ত ভবনে পরিণ হয়ে আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূলভবনটির গায়ে শেওলা। রোগী থাকার ও ডাক্তারদের বসার রোমের দরজা জানালার কাঁচ ভাংগা। লোকজনের আনাগোনা নেই। একটু ভিতরে ও আশপাশের অবস্থা আরও খারাপ।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিপুল পরিমান টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। সরকার বিনামুল্যে ঔষধ সরবারাহসহ অনেক পরিক্ষা নিরিক্ষাও ফ্রি দেওয়াসহ নামমাত্র মূল্যে পরিক্ষা খরচ নিয়ে থাকেন। সরকার স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমান টাকা ব্যয় করলেও গাজীপুরের একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থা নোংরা। শুধু তাই নয় এখন এ কেন্দ্রটিতে রোগী আসাত দূরের কথা ভাল সুস্থ্য মানুষের আনা গোনা নেই। যারা এ কেন্দ্রে আসেন তারা ময়লা ফেলতে আসেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে আশপাশের লোকজন ইটের শুরকির বস্তা, খড়কোটা ও রান্না করার লাকড়ি রাখার ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন ভবনটির অনেক অংশ জুড়ে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে জনবল সংকট আর অব্যবস্থাপনার কারণে রোগী আসেন না, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন রোগী ! বেহাল অবস্থার হাসপাতালটির দিকে যেন কারও নজর নেই। জানা গেছে, গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে ডাক্তার নিয়োগ থাকলেও কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এখানে আসে না। এরফলে ওই এলাকার সাধারন মানুষ সরকারের খরচে চলা শ্রীপুরের কাওরাইদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির সেবা বঞ্চিত হয়ে আছে। এতে করে শ্রীপুরের কাওরাইদ এলাকার হাজার হাজার মানুষসহ গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা গ্রামীণ শিশু ও নারীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রতিদিন এখানকার মানুষ। সরকারের মহা পরিকল্পনার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বেশ অগ্রসর হলেও সুবিধা বঞ্চিত রয়েছে শ্রীপুরের কাওরাইদ এলাকার মানুষ।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদে নির্মাণ করা হয় ‘ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র’। এর কিছুদিন পরেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বদলী হয়ে যাওয়ায় জনবল শূণ্য হয়ে পড়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শুধুমাত্র পরিদর্শক ছাড়া আর কেউ আসেন না। তিনিও মাত্র ঘণ্টাখানেক সময় থেকে আবার তালা দিয়ে চলে যান। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আশপাশ ও দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন।
এ বিষয়ে অফিস সহায়ক আনিছুর রহমান কথা গুলো এরিয়ে গেলেও পরে বলেন, আমি এখানে পিওনের কাজ করি। আমি আপনাদের কাছে কি আর বলব। আমার ডিউটি আমি করি। স্যারেরা আসলে আমারও আসতে হয়। স্যারেরা না আসলে আমি পিওন বেটা কি কাজ করব এখানে? এর বেশি কিছু বলতে পারবোনা। আমার উপরের কর্মকর্তা রয়েছে তারা ভালো বলতে পারবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কাওরাইদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ভবনের ভিতরে গরু,ছাগলের বসবাস,রুমের ভিতরে লাকরী আর পাতার বস্তা দিয়ে ভরে রেখেছে এলাকার লোকজন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সকল আসবাপত্র ভেঙে অচল অবস্থায় রয়েছে। এ ভবনের চারপাশ ও ভিতরের দৃশ্য দেখলে মনে হবে এ ভবন নিমানের পরে কারও পদচারনা পড়েনি। যত্ন নেয়ার কেউ নেই বা ছিল না। চেয়ার টেবিলসহ বাকি আসবার পত্র যা আছে তা এতটাই নোংরা যে গা শিউড়ে উঠে।
স্থানীয়রা কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার কথা বলে তারা জানান, এখানে সন্ধ্যার পড়ে গাজার গন্ধে অতিষ্ঠ করে তুলে আশপাশের লোকজনদের। দীর্ঘ দিন যাবৎ এই অবস্থায় আছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। সন্ধ্যা হলেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ঘরের ভিতরে চলে রাতভর মাদক সেবনকারিদের আড্ডা। তবে সন্ধ্যার পড়ে এখানে আইনের লোকজনও আসেন না। মাদক বিক্রি থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভিতরে। কেও কিছু বলার সাহস পায়না। সবাই ওদেরকে ভয় পায়। তবে প্রশাসনের লোক যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে মাদক সেবিদের উৎপাত কমে যেত। আমরাও শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম।
এ বিষয়ে ডাক্তার ফজলুল হক বলেন, আমি কাজ করি শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, কাওরাইদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তার ছিল টাঙ্গাইলের, তিনি অসুস্থ থাকার কারনে আসতে পারছেনা। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভিতরে রাতে জুয়া, ইয়াবা, গাজাসহ সকল ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড হয় তা জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভিতরে স্থানীয় লোকজন পরিত্যক্ত ভবনের ভিতরে গরু,ছাগলের বসবাস,রুমের ভিতরে লাকরী আর পাতার বস্তা দিয়ে ভরে রেখেছে। জানতে চাইলে তিনি, বলেন, আমার চোখে পড়েনী। আমি এ ঘুরে ঘুরে দেখব। এমন অবস্থ্যায় থাকলে তা ঠিক হবে না।
শ্রীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:ময়নুল হক জানান, উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এখানে আমরা সরাসরি কিছুই করতে পারি না। যা করি কাগজের মাধ্যমে। আমি আমার উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে সব বিষয়ে অবগত করব।
শ্রীপুর থানার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাওরাইদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আশপাশে পুলিশ টহল দেয়ার ব্যবস্থা করব। তবে এখনে মাদকসেবীরা অবস্থান করে তা আমার জানা ছিল না। আমি কাওরাইদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পিুলিশ পাঠাব।
