মোয়াজ্জেম বিন আউয়াল
ঘিয়ের নূন্যতম উপাদান নেই, অথচ নাম তার ‘খাঁটি গাওয়া ঘি’। পাম অয়েল, সুজি, ক্ষতিকারক রং ও ফেবিকল গাম একত্রে চুলায় জাল দিয়ে, তার সঙ্গে ফ্লেবার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই ঘি। খাবারের স্বাদ বিষিয়ে দিচ্ছে ভেজাল ঘি। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এমনই ভেজাল ঘি তৈরির কারখানা রয়েছে। নামীদামী ব্র্যান্ডের নামে গোপন কারখানার ঘি চলছে বাবুর্চিকে কমিশন দিয়ে।
অভিযোগ রয়েছে, কারখানা মালিকদের ২শ’ টাকার টোকেনের ভিত্তিতে বাবুর্চিরাই মূলত এসব ঘি ক্রেতাকে কিনতে বাধ্য করে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে র্যাব -১১ এর সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মোঃ উজ্জল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা বার আউলিয়া কারখানার বিপরীতে ‘অষ্ট্রেলিয়া গাওয়া ঘি’ নামে একটি ভেজাল ঘি তৈরি কারখানায় অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমান আদালত নকল ঘি এর কৌটা দেখে হতবাক হয়ে যান। পরীক্ষা করে ফ্লেবার মেশানো ঘি পান যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। এসময় আদালত দুই হাজার ভেজাল ঘিসহ কৌটা জব্দ করেন।
নকল ও ভেজাল ঘি বিক্রির অপরাধে শরীয়তপুর দামুদা উপজেলার গোমাখোলা গ্রামের সবুজ মিয়াকে দুই এবং একই জেলার নৈরা উপজেলার পন্ডিতসাম গ্রামের রাকিব দেওয়ানকে এক মাসের ও লালমনিরহাট জেলার কর্ণপুর গ্রামের আতিকুল ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদÐ দেয়া হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। নকল ও ভেজাল ঘি উৎপাদনের দায়ে ‘অস্ট্রেলিয়ান গাওয়া ঘি’ নামক কারখানাটি সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।
এ ব্যপারে নির্বাহী ম্যজিস্টেট উজ্জল হোসেন জানান, অষ্টেলিয়া গাওয়া ঘি নাম করে পাম অয়েল, সুজি, ক্ষতিকারক রং ও ফেবিকল গাম একত্রে চুলায় জাল দিয়ে, তার সঙ্গে ফ্লেবার মিশিয়ে তৈরি করে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। প্রতি কৌটা ঘি এর দাম ধরা হয়েছে ৯শ’ টাকা। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মালিকরা নিয়েছে অভিনব পন্থা। প্রত্যেক কৌটা ঘির মধ্যে একটা করে লেমিনেটিং টোকেন দেওয়া থাকে যা জমা দিলে দোকানদাররা ২০০ টাকা বাবুর্চিকে ফেরত দেয়। যার লোভে বাবুর্চি বিয়ে, বউভাত বা যেকোন অনুষ্ঠানে এই ভেজাল ঘি কেনার জন্য অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের বাধ্য করে থাকে। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা তাদের ফাঁদে পড়ে ভেজাল ঘি কিনে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে। অপরদিকে অনুষ্ঠনের মেহমানদের ভেজাল ঘি দিয়ে তৈরি করা খাবার খাইয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে।
