মুন্সীগঞ্জে বেহাল রাস্তায় ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় একটি বেহাল রাস্তার কারণে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চমর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক যুগেও ইট সলিং রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন ও মানুষের চলাফেরায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের খোদাইবাড়ি-দত্তগাঁও নামক প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ইউনিয়নের খোদাইবাড়ি সেলিম মেম্বারের বাড়ি থেকে দত্তগাঁও গ্রামের হাজী বারেক শেখের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল। এক যুগ আগের ইট উঠে গিয়ে রাস্তার অনেকাংশে বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ যেকোন যানবাহন চলাচলে রাস্তাটি বিপদজনক হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা আরো ভঙ্কর হয়ে পড়ে। ওই রাস্তা দত্তগাঁও থেকে মুসলিমপাড়া হয়ে বিবন্দী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বাকি রাস্তা সম্পূর্ণ কাঁচা। তার অবস্থা আরো খারাপ।
জানাযায়, দত্তগাঁও থেকে বিবন্দী কবরস্থান পর্যন্ত গত ২০১৭-২০১৮ সালের অর্থ বছরে কাবিটার বরাদ্ধে কাজ করা হলেও বৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যেই রাস্তা ভেঙেচুরে বেহাল হয়ে পড়েছে। এসময় লক্ষ্য করা গেছে রাস্তার অবস্থা এতোটাই খারাপ একটি বাইসাকেল চালিয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। পুরো রাস্তায় রয়েছে ৩টি ব্রীজ। ব্রীজের দুই পাশের রাস্তার ইট ও মাটি সড়ে গিয়ে পথচারীদের উঠা নামায় অতি কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এতে করে মাঝে মধ্যেই পথচারীরা দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন।
খোদাইবাড়ি, কাজলপুর, রানা, বিবন্দী, সিন্দুরদী, দত্তগাঁও, জুরাসার, বনগাঁও, ঝাপুটিয়া, পাঁচলদিয়াসহ বেশ কয়েটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচলে একমাত্র সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ওই রাস্তাটি বেহালের কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে উপজেলা এজিইডি প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানাযায়, রাস্তাটি সংস্কার কাজের জন্য চেষ্টা চলছে।
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী আজিজুল বলেন, এখানকার মানুষ প্রয়োজনে কোথাও গেলে তাদের প্রায় দেড়-দুই কিলোমিটার রাস্তা হেটে তার পরে কোনও যানবাহনে চড়তে হয়। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন রাস্তা বেহালের কারণে নিজ গ্রামে অটো, রিক্সাসহ কোনও প্রকার যানবাহন আসতে চায় না।
আবু কালাম নামের এক ব্যক্তি জানান, খোদাইবাড়ি-দত্তগাঁও পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তায় এক যুগ আগে ইট বিছানো হয়েছিল। রাস্তার ইট উঠে খানাখন্দে ভড়ে গেছে। অনেকাংশে রাস্তার ইটের কোনও অস্তিত্ব নেই সব বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষক আলী আকবর বলেন, অসুস্থ রোগী দ্রæত হাসপাতালে নিতে তাদের চরম ভোগান্তীতে পড়তে হয়। রাস্তা খারাপের কারণে কোনও গাড়ী পাননা তারা। এছাড়াও রাস্তা খারাপের কারণে চাষাবাদের সময় সার, আলোবিজসহ যেকোনও কৃষি উপকরণ আনা নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের অধিক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাস্তাটি শ্রীনগর ও লৌহজং দুই উপজেলার জন্য অনেক গুরুতপূর্ণ। কারণ হিসেবে এলাকাবাসী জানান, লৌহজং উপজেলার নাগের হাট ও কাহেতাঁরা থেকে ঘোরদৌড়ের সংযোগ রাস্তাও এটি। এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র প্রধান রাস্তাটি পাকা করনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয়রা।
কুকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নজরুল ইসলাম শেখের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ১০-১২টি গ্রামের জন্য রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তটি এতোটাই বেহাল হয়ে পড়েছে যানবাহন চলাচলে প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে রাস্তাটির সংস্কার কাজের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করছেন।