দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন

0 75

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী

- Advertisement -

আজ ২০ জানুয়ারি, শহীদ আসাদ দিবস। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন।১৯৬৯ এর এই দিনে স্বেচ্ছাচারী আইয়ুব খান’র পতন ঘটিয়ে ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রামে পাকিস্তানী পুলিশ ও ইপিআর বাহিনীর গুলিতে আন্দোলনের অগ্রনায়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম নেতা আমান উল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ নিহত হন।সেই থেকে দিবসটিকে শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ৬৯ উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটে এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।
 পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামোয় পূর্ববাংলার জাতিগত নিপীড়ন ও বঞ্চনা এবং তার বিপরীতে ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামসহ পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে ওঠা স্বকীয় সত্তার বোধ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। বস্তুত ১১ দফা কর্মসূচীর মাধ্যমে ছাত্র নেতৃবৃন্দ যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি আন্দোলনগত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া এসময় থেকেই শেখ মুজিবের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি ও প্রাধান্য পেতে শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-সহ ছাত্র সংগ্রাম কমিটির পূর্ব বাংলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঊনসত্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১১ দফা কর্মসূচি ঘোষিত হওয়ার পরপরই ৯ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ও মোজাফফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় ডেমোক্রাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক)। তারা ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার, প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খান আবদুল ওয়ালী খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করে এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের পক্ষে গণআন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ‘ডাক’ভুক্ত উগ্র ডানপন্থি কয়েকটি সংগঠন ছাত্র সংগ্রাম কমিটির দেওয়া ১১ দফা কর্মসূচিকে সমর্থন করতে অস্বীকার করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আন্দোলন ক্রমশ দানা বেঁধে ওঠে এবং ১১ দফার চেতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি সরকারপন্থি ছাত্র সংগঠন এন.এস.এফ- এর একটি অংশও তাদের ‘সংগ্রামী ২২ দফা’ কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে সরকার বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তৎকালীন স্বৈরাচারী আইয়ুব খান সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পাকিস্তানী পুলিশ ও ইপিআর বাহিনীর গুলিতে ১১ দফা আন্দোলনের অগ্রনায়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম নেতা আমান উল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ নিহত হন। বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবন উৎসর্গ করেন। শহীদ আসাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।গণতন্ত্রের জন্য শহীদ আসাদের জীবন উৎসর্গ,৭০-এর নির্বাচন ও ৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল ৬৯ এর গত অভ্যুত্থান। অর্থাৎ ৬৯ এর গত অভ্যুত্থানেই স্বাধীনতার বীজ নিহীত ছিল। দিবসটি উপলক্ষ্যে শহীদ আসাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন নরসিংদীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নরসিংদীর শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস  হাইস্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান,৬৯ এর গত অভ্যুত্থানের মহানায়ক, শিবপুরের ধানুয়ার কৃতিসন্তান শহীদ আসাদের এলাকার সন্তান ও তার নামীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা গর্বিত।দিবসটিকে আরো মর্যাদাপূর্ণ করার লক্ষ্যে ২০ জানুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে শহীদ আসাদ সম্পর্কে জানতে পাঠ্যপুস্তকে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।শহীদ আসাদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে জানান, শহীদ আসাদ শিবপুর, নরসিংদী তথা সমগ্র বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের অহংকার। আমাদের চেতনা, আমাদের গর্ব।তার স্মৃতি বিজড়িত কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্বিত।তাই তার আত্মজীবনী সহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকে বিশদ আলোচনা থাকা আবশ্যক। সেইসাথে দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ২০ জানুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণার ও দাবি জানান তিনি।শহীদ আসাদের সহযোগী ও শহীদ আসাদ কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হারিচ রিকাবদার বলেন, আসাদের ১১ দফা দাবিতে কৃষক- শ্রমিক-কর্মচারীদের মুক্তির লক্ষ্যে যে আন্দোলন করেছিলেন তাতেই আমাদের ৭১’ এর স্বাধীনতার বীজ নিহীত ছিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More