দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

করোনা মোকাবেলায় এসিল্যান্ড শাহ্ আলমের বিরামহীন ছুটে চলা

0 174

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী:

দীর্ঘ ৬৬ দিন সাধারণ সরকারী ছুটি থাকার পর আজ সরকারি অফিস খুলবে কিন্তু নরসিংদীর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল এসিল্যান্ড শাহ্ আলম মিয়া সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে ছুটির পরিবর্তে করোনা রোগীদের সংস্পর্শেই তার অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন  ফলে ঘরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী “আশা” ও বৃদ্ধা মা “অজুবা” বেগমকে নিয়ে একই ছাদের নিচে বসবাস করলেও তাদের কারো সাথে খুব একটা দেখা হয় নাই, কথা হয় নাই তার। নিজের জন্য একটি রুম নিজের মতো করে আলাদা করে নিয়ে সেখানে নিজের মতো করে একাকী বসবাস করতে হয়েছে তাকে। 


করোনা আক্রান্তদের হিসেবে শীর্ষ ঢাকা শহরের নিকটবর্তী এবং নারায়নগঞ্জ জেলার পাশের জেলা হওয়ায় নরসিংদীতে তার কর্মতৎপরতা ছিল অনেক বেশি।


সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং কুইক রেসপন্স টিমের আহ্বায়ক হিসেবে এই দিনগুলোতে তিনি  ০৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩৯টি মামলায় ২,৪৪,২০০/-(দুই লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার দুই শত) টাকা অর্থদন্ড আদায় করেন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রন, সরকারি নির্দেশনা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, পরিবেশ রক্ষা ইত্যাদি কারনে এসব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধের কারনে কর্মহীন, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ত্রাণ কার্যক্রম  পরিচালিত হয়েছে করোনা কালীন সময়ে। নরসিংদী সদর উপজেলার সরকারি, বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার পরিবারের ত্রাণ বিতরণ সরাসরি তার তত্বাবধান পরিচালিত হয়েছে।

মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ যারা সম্মান হারানোর ভয় বা সংকোচের কারণে কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না, তাদের জন্য গোপনে রাতের আধারে খাবার পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা  তার মাধ্যমেই হয়েছে।  তাছাড়া ত্রাণ বিতরণের সময়  যেন কর্মহীন,অসহায় ও খেটে খাওয়া কোন শ্রেনী পেশার মানুষ বাদ না পড়ে সেদিকে ও খেয়াল রেখেছেন তিনি।


 বিদেশ এবং দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।

- Advertisement -


করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ী এবং আশপাশ এলাকা লকডাউনসহ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি কোন অপরাধী নন,তিনি একটি দূর্যোগের বা পরিস্থিতির শিকার মাত্র।আজকে উনি আক্রান্ত হয়েছেন,পরশু আপনি -আমিও আক্রান্ত হতে পারি।তাই ঘৃণা নয় ভালবাসা, মানবতা ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করুন এই মেসেজ পুরো জেলা বাসীকে পৌছেঁ দিতে নানাবিধ কর্মকান্ড ও প্রচারণা চালিয়েছেন।
করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফন ও সৎকার করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধক পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে।

দত্তপাড়া শ্মশানঘাটে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতের শবদাহ কাজ সম্পাদন করতে হয়েছে কয়েকটি ।সরকারের ওএমএস ও হতদরিদ্রের জন্য ১০টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ এর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং এর মাধ্যমে নরসিংদী সদর উপজেলার প্রায় দশ হাজার পরিবারকে এই চাল সরবরাহ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০তম নির্দেশনা: জেলা প্রশাসনের সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম নিরলস ভাবে পরিচালনা করেছেন তিনি।


জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং নরসিংদীর নানা সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর মাঝে ইফতার বিতরণ করেছি. বোরো ফসল যাতে বৃষ্টি বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য কৃষি অফিসের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উৎসাহ উদ্দীপনায় কৃষকের জমিতে ধান কাটার ব্যবস্থা করাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কৃষকের ধান কাটার জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন উপহার স্বরূপ কৃষকের হাতে তুলে দিয়েছেন।


 সরকারি নির্দেশনা অনুসারে সকল হাট-বাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে লিফলেট, মাস্ক, স্যানিটাইজার বিতরণ,করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থবিধি ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সীমিত পরিসরে চলমান ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিদর্শন,করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন কর্তৃক দেশের বৃহৎ কাপড়ের বাজার শেখেরচর বাবুরহাট বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা,করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রমে সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় রক্ষা,সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার ডিফেন্স সহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সাথে সমন্বয় সাধন করে করোনা প্রতিরোধ এর বিরামহীন চেষ্টাসহএই সংকটকালীন সময়েও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন তিনি।

এছাড়াও বিভিন্ন হাটবাজারে জীবানুমুক্ত করণ,কোভিড ডেডিকেটেড ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের মাঝে জেলা প্রশাসনের হয়ে ঈদ আনন্দ বন্টন,ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে করোনায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির পরিবারবর্গের মাঝে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করাসহ এক বিরামহীন মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।


তার বিরামহীন ছুটে চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সকল কাজের অনুপ্রেরণায় সর্বদা ছিল মান্যবর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দেশের অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি, নরসিংদী জেলার সম্মানিত সভাপতি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন মহোদয় ।বিশেষ করে এসময় গুলোতে সাংবাদিক ভাইদের অবদান কোন অংশে কম ছিল না । সংকটকালীন সময়ছ অনেকে দিন রাত পরিশ্রম করেছেন এবং করে যাচ্ছেন।সর্বোপরি  এবারের ঈদুল ফিতর ছিল মানবিকতার ঈদ, সহমর্মিতার ঈদ । নরসিংদী জেলা প্রশাসনের এই ক্লান্তিহীন যুদ্ধ অব্যাহত আছে এবং থাকবে বলেও জানান তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More