সোনারগাঁ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা তৈয়ারী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এ সময় শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন।
আজ রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বেতন ভাতা, মাতৃত্বকালীন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দাবিতে শ্রমিকরা প্রথমে কারখানায় মালিক পক্ষের সাথে কথা বলেন। তাদের পাওনা না দেয়ায় ও শ্রমিকদের দাবি না মানার কারনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নেমে আসেন।
এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় ৩ ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ হয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে কাচঁপুর শিল্প পুলিশ ও সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সময় নেয় প্রায় আড়াই ঘন্টা।
এ ঘটনায় আন্দোলনরত কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলার কাচঁপুর এলাকায় অবিস্থত ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা বকেয়া বেতন, মাতৃতত্বকালীন ছুটির টাকা, শ্রমিক ছাটাইয়ের টাকার দাবিতে মহা সড়কে নেমে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে একত্রিত হয়ে কয়েক’শ শ্রমিক ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও কাচঁপুর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পাল্টা টিয়ারশেল ও জলকামান ছুড়ে মারলে কাচঁপুর এলাকায় সিলেট মহাসড়ক রনক্ষেত্র পরিনত হয়। এতে শ্রমিক-পুলিশ সহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ করায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন প্রায় ৩ ঘন্টা বন্ধ থাকে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ১২ কিলোমিটার ও ঢাকা চট্রগ্রাম সড়কে প্রায় ৫ কিলেমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়ে দুরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রæপের পরিচালক (প্রশাসন) সাইফুল কবির এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শ্রমিকরা অযুক্তিক দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে ও কারখানায় ভাংচুর চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ছুটি ঘোষনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাদের অযুক্তিক দাবির জবার তাতক্ষণিক না দেয়ায় শ্রমিকা এ অযোক্তিক কাজ করেন।
শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার বশির জানান, শ্রমিকরা তাদের কিছু দাবি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের কথা শোনে ইট পটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল বেশি করে ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল, ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এসময় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটে অন্তত ১৬ জন শ্রমিক ও ৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনার নিয়ন্ত্রণ আসে দুপুর ১২টার দিকে। পরে শ্রমিকদের শান্তনা দিয়ে বলা হয় আমরা মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে আপনাদের দাবি সমাধান করার চেষ্টা করব। শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
