নরসিংদী প্রতিনিধি:
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নরসিংদীতে অভিশপ্ত বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেলো এক শিশু। সোমবার বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের মোঃ সুলেমান মিয়ার অপ্রাপ্ত বয়স্কা কন্যার সাথে শিবপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের মোঃ রফিকুল ইসলামের অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্রের বাল্যবিবাহের ঘটনা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের নির্দেশনায় নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত জামিল সৈকত উপস্থিত হয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন।
এসময়ে আদালতের উপস্থিতিতে আইনের ৮ ধারার অপরাধ উদঘাটিত হওয়ায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত জামিল সৈকত অপরাধ স্বীকার কারী অভিভাবককে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এসময় চিনিশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ মুরাদ হোসান এবং আইয়ুবপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাদল ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন।
নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, বিবাহ একটি ধর্মীয়, সামাজিক ও সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। তবে বাল্যবিবাহ একটি ফৌজদারি ও সামাজিক অপরাধ। বাল্যবিবাহের কুফল দীর্ঘমেয়াদী।বাল্যবিবাহ হলে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু ও নারী নির্যাতনের হার বৃদ্ধি পায়। নরসিংদী জেলা প্রশাসনের মতো সারাদেশেই বাল্য বিবাহের প্রতি কঠোর নজরদারি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে বর্তমানে বাল্যবিবাহের হার হ্রাস পাচ্ছে। ফলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সফলতা লাভ করছে।
তিনি আরো জানান, নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এর দূরদৃষ্টির কারণে নরসিংদী জেলায় বাল্যবিবাহ রোধে তৈরি হয়েছে ত্রিমাত্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। প্রশাসনের নেতৃত্বে সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত সহযোগিতায় জেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর নজরদারি চলমান রয়েছে।
বাল্যবিবাহ রোধে জেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে ও জানান তিনি।
