নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীতে ব্যবসায়ীকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে মোটা অঙ্কের কাবিনের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিয়ে বিচ্ছেদের পর পুনরায় তাকে তুলে নিয়ে মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের কাবিননামায় স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দিয়েছে মনিরা ইসলাম নিপা (২৩) নামে এক তরুণী।
এখন পুনরায় তাকে বউ হিসেবে তুলে আনতে নতুবা দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা প্রদান করতে ছেলের পরিবারকে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছে ওই তরুণী। এই ঘটনায় প্রতারক ওই তরুণীর হাত থেকে পরিত্রাণ চেয়ে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছে কথিত স্বামী। এরপর থেকে তাদেরকে নানাভাবে হয়রাণীর হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ছেলে ও তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর মাধবদী থানাধিন নুরালাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত এক বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার বরপার বাগান বাড়ীর মেয়ে নিপার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে মাধবদীর নোয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ব্যবসায়ী ছেলে আশরাফুল হক বিপ্লবের। সম্পর্কের এক পর্যায়ে নিপা ঢাকায় নিয়ে বিপ্লবকে জিম্মি করে নিজেকে কুমারি উল্লেখ করে ৫লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করে। ছেলের দিকে তাকিয়ে বিপ্লবের পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই নিপার আসল চরিত্র প্রকাশ হতে থাকে।
সে চরম বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করে। ঘন্টার পর ঘন্টা সে মোবাইল ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত থাকে এবং যখন তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এব্যাপারে বিপ্লব ও তার পরিবার কিছু বললেই তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে সে। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় নিপা একটি শক্তিশালী প্রতারকচক্রের সদস্য। তার ইতিপূর্বে আরও কয়েকটি বিয়ে হয়েছিল।
প্রত্যেক স্বামীর কাছ থেকেই সে তার চক্রের সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে জোরপূর্বক দেনমোহরানা ও অন্যান্য টাকা আদায় করে নেয় এবং বিয়ে করে কাবিনের টাকা হাতিয়ে নেয়াই তার পেশা। বিপ্লবের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের জন্যই সে বিয়ের নাটক করে।
পরে পারিবারিক সম্মান বাঁচানোর জন্য নুরালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ফয়সাল, মাধবদী থানার উপ-পরিদর্শক এনায়েত কবির মামুন ও আব্দুর রাজ্জাকসহ গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে নোটারী পাবলিক এর তালাক ঘোষনাপত্রে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক কাবিনের ৫ লাখ টাকা ও তিন মাসের ভরণ পোষণ বাবদ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে নিপার সাথে বিয়ে বিচ্ছেদ করেন বিল্পব।
কিন্তু বিয়ে বিচ্ছেদের পর পুনরায় তাকে সন্ত্রাসীবাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে ঢাকার একটি বাড়িতে আটকে ব্যাপক মারপিট করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকার কাবিননামায় স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়।
বিল্পবের বাবা আ: হালিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন তারা নিপার ভয়ে এখন বাড়িছাড়া এ প্রতারক চক্রের কাছ থেকে মুক্তি পেতে নিপার বিরুদ্ধে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে নিপা জানান, পূর্বে বিয়ে হয়েছিলো তা জেনেশুনেই বিপ্লব তাকে বিয়ে করেছে। এরপর পারিবারিক কলহের কারনে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে পুনরায় বিপ্লবের ইচ্ছাতেই তাদের আবার বিয়ে হয় বলে তার দাবী ।এব্যাপারে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, নরিসংদীর বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
