
ওমর ফারুক (শামীম), ব্যুরো চীফ, ইউরোপ: পর্তুগাল পার্লামেন্টে সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধরদের নাগরিকত্ব দেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে একটি বিল পাস করা হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে আগামী বছর জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে এই বিলটি কার্যকর করা শুরু হবে। সংসদে উত্তপ্ত বিতর্কের পরে ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলের সমর্থনে শুক্রবার এই বিলটি পাস হয় এবং সংসদের সাংবিধানিক বিষয়, অধিকার, স্বাধীনতা এবং গ্যারান্টি কমিটি দ্বারা বিলটির সম্ভাব্য যাচাই-বাছাই করা হবে।
সোমবার পার্লামেন্টে বক্তৃতাকালে, বিচারমন্ত্রী ক্যাটারিনা সারমেন্তো ই কাস্ত্রো বলেন, সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধরদের নাগরিকত্ব আইনটি তার প্রকৃত উদ্যেশ্য পূরন করেছে এবং এটি এখন বন্ধ করার সময় এসে গেছে।
সংসদে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান আলোচনায় সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধরদের নাগরিকত্ব আবেদনের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
পর্তুগিজ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড বর্ডার সার্ভিসের (এসইএফ) জানিয়েছে, ২০২২ সালে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পেতে সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন ইহুদিরা। সে বছর মোট ২০ হাজার ৯৭৫ জন ইহুদি আবেদন করেছেন, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার বেশি।
কেবল ২০২২ সাল নয়, ২০২১ সালেও পর্তুগালের নাগরিকত্ব পেতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ইসরায়েলি নাগরিকেরা। সে বছর ২১ হাজার ২৬৩ জন আবেদন করেছিলেন পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পেতে।
এমনকি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনটি কিছুটা কঠোর করা হয়। সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ৭৪০০০ ব্যক্তি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছে যার মধ্যে ২১০০০ আবেদনকারী ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক।
২০১৩ সালে স্পেন সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধরদের জন্য “প্রত্যাবর্তনের আইন” নামে একটি আইন করেছিল যা ২০১৫ সালে পর্তুগাল সরাসরি অনুসরণ করেছিল। তবে স্পেনের সংস্করণের বিপরীতে, পর্তুগালের আইনটি ছিল কম কঠোর। সাধারণত লিসবন বা পোর্তুর ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রধান দ্বারা সত্যায়িত করা সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধর এমন একটি স্পষ্ট রেকর্ড দেখাতে পারলেই এই আইনের আওতায় ইহুদিরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারতো।
যদিও শুরুর কিছুদিন পর থেকেই কঠিন জালিয়াতি এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারনে এই আবেদন প্রক্রিয়াটি সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে আসছিল।
স্পেন ২০২১ সালেই সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধরদের জন্য “প্রত্যাবর্তনের আইন” এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে একই অভিযোগের কারনে।
এই নতুন আইনটিকে পর্তুগালে বসবাসরত বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন বিরোধিতা করলেও সাধারণ পর্তুগিজরা এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বর্তমান ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলকে এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
