গোপালগঞ্জে মেরুদণ্ডে হাঁটু দিয়ে আঘাতে নিখিল হত্যায় মমলায় দুই পুলিশ গ্রেফতার
জাগো বাংলাদেশ ডেস্কঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় কৃষক নিখিল তালুকদার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই (সহকারী উপ-পরিদর্শক) শামীম হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে বলে জানান কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান।
ওসি শেখ লুৎফর রহমান জানান, নিহতের ছোট ভাই মন্টু তালুকদার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় কোটালীপাড়া থানার এএসআই (সহকারী উপ-পরিদর্শক) শামীম হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে শনিবার কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ ঘটনায় একটি মীমাংসা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, পৌর মেয়র কামাল হোসেন, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, রামশীল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকন বালা ও কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ লুৎফর রহমানসহ এলাকার গণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে নিহত নিখিলের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা ও তার স্ত্রী ইতি তালুকদার এবং ছোট ভাই মন্টু তালুকদারকে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২ জুন বিকালে রামশীল বাজারের ব্রিজের পূর্ব পাশে নিখিলসহ চারজন তাস খেলছিল। ওই সময় কোটালীপাড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শামীম হাসান একজন ভ্যানচালক ও একজন যুবককে নিয়ে সেখানে যায় এবং আড়ালে দাঁড়িয়ে মোবাইলে তাস খেলার দৃশ্য ধারণ করেন। তাস খেলতে থাকা ওই চার ব্যক্তি যখন দেখতে পায়, তাদের খেলা মোবাইলে ধারণ করছে, তখন তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় অন্য তিনজন পালিয়ে গেলেও নিখিলকে শামীম হাসান ধরে মারপিট করতে থাকেন এবং হাঁটু দিয়ে পিঠে মেরুদণ্ডে আঘাত করেন। এতে নিখিলের মেরুদণ্ড তিন খণ্ড হয়ে যায়। আহতাবস্থায় স্বজনেরা তাকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে চিকিৎসক ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট বিভাগীয় তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
