মেধাবী শিক্ষার্থীরাই স্বনির্ভর জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করবে। –ইশা ছাত্র আন্দোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক, অফিসঃ
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে, এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় কৃতকার্যদের নিয়ে “কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার শাখার সভাপতি শিব্বির আহমাদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ সারোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগ্রামী জয়েন্ট সেক্রেটারী এডভোকেট মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম।
আজ (৫জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের শিমু মার্কেট এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইশা)র অফিসে প্রাঙ্গনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক অর্জন। সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্রসমাজ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির যেসব অর্জন আছে, তা বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। বলেও দাবি করেন বক্তা।
কিন্তু খুব হতাশা ও দুঃখ নিয়ে বলতে হয়, ছাত্র রাজনীতি তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। ছাত্রসমাজ অতীত ইতিহাস ভুলে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এক সময় ছাত্র রাজনীতি করা ছিল অতি গৌরবের। যারা ছাত্র রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ছিল, সমাজে তাদের আলাদা কদর ছিল। দেশের মানুষ জানত, এই ছাত্রসমাজ নিজেদের স্বার্থ বলি দিয়ে দেশ ও দশের স্বার্থে রাজনীতি করে।
বাংলাদেশের মধ্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন একমাত্র সংগঠন যারা কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করে না। প্রতিষ্ঠা লগ্ন (১৯৯১ সালের ২৩শে আগষ্ট) থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত নিজেদের চরিত্র ও দলের সম্মান অক্ষুন্ন রেখে বাংলাদেশে রাজনীতি করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ইশা ছাত্র আন্দোলনই একমাত্র সংগঠন, যে সংগঠনের নেতা কর্মীদের নামে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, খুন ও ধর্ষণের কোনো মামলা নেই। তাই উপস্থিত কৃতি শিক্ষার্থী বন্ধুদের বলতে চাই যদি আদর্শ, অপরাধ মুক্ত জীবন ও একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়তে চাও তাহলে আমি বলতে পারি ইশা ছাত্র আন্দোলন তোমার জন্য উপযুক্ত প্লাটফর্ম।
বিশেষ অতিথি ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর তার বক্তব্যে বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা একটা কথা শুনে এসেছি ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’। কিন্তু আসলেই কি শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড? আমরা কয়েকটা ধাপে শিক্ষা গ্রহণ করি ভালো একটি সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যমে ভালো চাকরি পাবো সেই আশায়।
জীবিকার তাগিদে চলে যাই অন্ধকার জগতে। আমার শিক্ষা তখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে যায়। সুশিক্ষার অভাবে চুরি, ডাকাতি, মারামারি, খুন, অন্যায়, ধর্ষণ, নির্যাতন, শোষণ ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়ে যাই।
জেলা সভাপতি শিব্বির আহমাদ বলেন, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এগুলো আসে পরিবার তথা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এগুলো কতটুকু সংযুক্ত আছে তা দেখলে অবাক হতে হয়। বর্তমানে যতটুকু যুক্ত তা যথেষ্ট নয়। আরও বহুগুণে এ ধরনের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা নামে আলাদা বিষয় যুক্ত করতে হবে।
সুশিক্ষা না পেয়ে নিজের পিতা-মাতাকে পর্যন্ত বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে আসে। আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নতি তো এদের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এরা কীভাবে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে? পত্রিকা খুললেই প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের খবর। স্কুল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষণ হয়।
পরে সকল কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামীতেও প্রতিটি পরীক্ষায় আরও ভালো ফলাফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে নিরাপদ থাকতে শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান এবং এই পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা পরলোক গমন করেছেন সবার রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।
উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইশা ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
