নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের বঞ্চিত করে পরপর ৩টি রাস্তা বরাদ্দের টাকা গিলেছে করেছে স্থানীয় একটি জালিয়াত ঠিকাদার চক্র। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের না জানিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট থেকে কমিশন নিচ্ছে ওই চক্র।
এতে প্রতিবাদ করায় সদস্য পদ বাতিলের হুমকী দিয়েছে অভিযুক্তরা। এতে স্থানীয়রা বলছে চোরের মা’র বড় গলা। কেউ কেউ বলছেন, চোরির চোরি আবার সিনা জুরি।
রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মনির হোসেন জানান, বিগত নির্বাচনে অত্র ওয়ার্ডে নির্বাচিত ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা ঘাট মেরামত, নির্মাণকাজে বিধি মোতাবেক ইউপি সদস্যদের উন্নয়নকাজে জড়িত থাকার নিয়ম থাকলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আলমপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে কথিত ঠিকাদার মোমেন মিয়া ও পিতলগঞ্জ এলাকার ঠিকাদার ওবাইদুল মজিদ জুয়েল মাস্টার জিন্মি করে রাখে।
এমনকি ২নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন কমিটির নামে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ গিলে খেয়েছে। এছাড়াও করতে বাগবের ও গোয়ালপাড়া এলাকায় পরপর ৩টি রাস্তার কাজ তার স্বাক্ষর নকল করে হাতিয়ে নেয়। পরে পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি তুলে জানতে পারেন ওই রাস্তার কাজ মনির মেম্বার ও ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার জাকিয়া সুলতানার স্বাক্ষর ছিলো।
এ বিষয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, জনগণের জন্য কাজ করতে নিজ হাতে উন্নয়ন করতে মেম্বার হয়েছি। কাউকে কমিশন দিয়ে কাজ করার জন্য নয়। কোন কাজেই আমাদের ডাকা হয় না। আমাদের না জানিয়ে এমনকি আমার ওয়ার্ডের কাজ বাস্তবায়ন করে নিচ্ছে আমাদের নামে । বাস্তবে আমরা কিছুই জানিনা।
বাগবের এলাকার ওই রাস্তাগুলোতে মনির মেম্বার ও আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ জালিয়াত চক্র পুরো ইউনিয়নের সকল মেম্বারদের জিন্মি করে রেখেছেন। এ ঘটনায় কোথাও বিচার দিলে মেম্বারী খতম করে দিব বলে হুমকী দেয় জুয়েল মাস্টার।
চেয়ারম্যান রহস্যজনক কোন পদক্ষেপ নেননি। এদিকে ১২ জনু শুক্রবার সকালে এসব কাগজে স্বাক্ষর ওই ইউপি সদস্যগণ করে নাই , তারা কাজ বিষয়ে কিছু জানেন না মর্মে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ঠিকাদার ওবাইদুল মজিদ জুয়েল মাস্টার তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মমতো কাজ পেয়েছি। কোন অনিয়ম করিনি। কাউকে জিন্মি করিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, অভিযুক্তরা স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন কিনা আমার জানা নাই। তবে মনির মেম্বার মেম্বার এমন দাবী করেছেন যতি কাজ পেয়েছে ৩ মাস হয়ে গেছে।
এতোদিন বিষয়টি জানতাম না। ইউনিয়ন পরিষদের কাজে জালিয়াতির আশ্রয় যাতে ভবিষ্যতে কেউ না নেয় তার দিকে নজর রাখবো। যেহেতু বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তাদের যা সিদ্ধান্ত হয় তা বাস্তবায়ন করবো।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে জড়িত প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
