আলমগীর হোসেন প্লাবনঃ
কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা। আবার সন্ধ্যার পরে রাতেও দেখা যায়। এ বাড়ি ও বাড়ি যাচ্ছেন। তবে খালি হাতে যাচ্ছেন না। একটু আহারতোলে দেয়াটাই যেন তার সুখ। নিজের আরাম আয়েশ কখন ভূলেছেন তা নিজের বলতে পারছেন না। অফিস, করোনা আক্রান্তদের খোঁজ নেয়া মধ্যদিয়েই কাটছে নিত্যদিন।
এমন দৃশ্যটা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার একজন সরকারী চাকুরীজিবীর। তিনি কয়েক মাস হলো এ উপজেলায় নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি এ উপজেলায় যোগদান করার পরে বড় চ্যেলেঞ্জ হয়েছে, করোনা ভাইরাস রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য জনসচেতনতার কাজ করা। এসব বিষয় যে সরকারী চাকুরীজিবীর তার নাম মোঃ সাইদুল ইসলাম ইউএনও সোনারগাঁও।
সোনারগাঁ উপজেলার ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়ন সুমন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন ।
কয়েকদিন পূর্বে তার কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ আসে। নিয়ন সুমন বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তিনি স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন এবং সক্রীয় ভাবে কাজ করে আসছিলেন।
বুধবার(৩জুন) সকালে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুল ইসলাম নিয়ন সুমনকে দেখতে ও তার বর্তমান শারিরীক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের একাধিক স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে নিয়ে তার (নিয়ন সুমনের) বাসায় যান।
তিনি সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তার খোঁজখবর নেন ও যে কোনো পরিস্থিতিতে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন ও সুস্থ হয়ে ফিরে আসার জন্য নিজ থেকে তাকে সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণা প্রদান করেন। সেই সাথে সকল সোনারগাঁবাসীকে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরে বাহিরে না যাওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে স্থানীয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী ও সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান সোহাগ,বারদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ নাজমুল আলম বাবু, সনমান্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ফারহান আহমেদ পলাশ,সোনারগাঁও উপজেলা বঙ্গবন্ধু তথ্য প্রযুক্তি লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোমেন হাসান বাদশাসহ কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন।
