নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এই বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে । উপজেলার সাতগ্রাম, পাঁচরুখী, দুপ্তারা, ছনপাড়া, টেকপাড়া, সুলতান সাদী, খাককান্দা, বিশনন্দী, কালাপাহাড়িয়া, বিনাইরচর, পাঁচগাও, নোয়াগাঁওসহ প্রতিটি এলাকায় কৃষকের মাঠ ভরা ধান আর ধান। করোনা ভাইরাস এর কারনে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ গুলো বেশ কিছু দিন ধরে লক ডাউনে আছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আড়াইহাজারের প্রতিটা এলাকায় ধানের ভালো ফলন হয়েছে । এখানকার কৃষকরা জানিয়েছেন, এ বছর দুটি জাতের ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে ।
কৃষক টেকপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ আউয়াল মিয়া বলেন, ধানের জাতের মধ্যে রয়েছে মৌসুমের একটি আগাম জাত। ব্রি ধান ২৮ এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯ এর চেয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ কম। তাই যে সব কৃষকরা আগাম ফসল কাটতে চান তাদের জন্য এ জাতটি বিশেষভাবে উপযোগী। এ জাত আগাম বিধায় বন্যাপ্রবণ এলাকায় যেখানে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায় সেসব এলাকার জন্যও উপযোগী। এ ধানের মুড়ি ভালো হয়। বোরো ধান চাষের পর যারা সবুজ সার চাষ করে মাটির উর্বরতা বাড়াতে চান তারা এ আগাম জাতটি নির্বাচন করতে পারেন । পাকার সময় ধানের শিষ উপরে থাকে, চাল মাঝারি চিকন ও সাদা, ভাত ঝর ঝরে ও খেতে সুস্বাদু। এ জাতের জীবনকাল ১৪০ দিন এবং স্বাভাবিক ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৫-৬.০ টন।
ব্রি ধান ২৯ বোরো মৌসুমের একটি নাবি জাতের ধান। এটি একটি উচ্চফলন ক্ষমতাসম্পন্ন জাত। ব্রি ধান ২৯ জাতের বৈশিষ্ট্য হলো- গাছের কাণ্ড মজবুত তাই হেলে পড়ে না এবং এর চাল মাঝারি চিকন ও সাদা। গুণে ও মানে ব্রি ধান ২৯ সব আধুনিক ধানের সেরা। বলা যেতে পারে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৯ সবচাইতে জনপ্রিয় জাত। এর ফলনের পরিমাণ সর্বোচ্চ। তবে উচ্চফলন দেয়ার জন্য এর সার গ্রহণ ক্ষমতাও বেশি। ব্রি ধান ২৯ পাতা পোড়া ও খোল পোড়া রোগে মধ্যম প্রতিরোধশীল। এর জীবনকাল ১৬০ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৫ টন। অনেক মতে, ব্রি ধান ২৯ হলো বাংলাদেশের হাইব্রিড ধান। আমি তিন বিঘা জমিতে ব্রি ধান ২৮ ও তিন বিঘা জমিতে ব্রি ধান ২৯ জাতের ধান রোপন করেছি।ফলন অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে কিন্তু শ্রমিক সন্কটের কারনে পাঁকা ধান কাটতে পারছি না।
এই ব্যাপারে আড়াইহাজারের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রহিজদ্দিন মিয়া বলেন, এই বছর সরকারি ভাবে সার এবং বীজ সরবরাহ ঠিক মতো দেওয়ায় ও সঠিক পরামর্শ এবং চাষীদের সঠিক পরিচর্যার কারনে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। করোনার কারনে উত্তর অঞ্চলের শ্রমিকরা না আসায় কিছুটা শ্রমিক সন্কট রয়েছে । আশা করছি চাষীরা ঠিক মতো ধান ঘরে তুলতে পারলে লক্ষ মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ইনশাল্লাহ ।
