বিশেষ প্রতিবেদকঃ
ছবিটাতে দেখা যাচ্ছে পরিস্কার ঘুমানো অবস্থায় একজন চেয়ারে আছেন। তিনি কি ঘুমাচ্ছেন? এমন প্রশ্নটা না করাই ভাল ছিল! তবুও করা হলো। যিনি ঘুমাচ্ছেন তিনি নিজেও জানেন না ডিউটি চলাকালিন সময় তিনি চেয়ারে বসে কখন ঘুমিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুমানোর ছবিটা দেখে যে কেউ মন্দ বলতেই পারেন। ছবিটা দেখে অনেকের রাগও হতে পারে। কতৃপক্ষ ছেলেটাকে চাকুরী থেকে অব্যহতি দিতেও পারেন। আসল ঘটনা ও সত্যটা জানার টেষ্টা না করার আগেই যতি এমন সিন্ধান্ত নেন তাহলে ছেলেটির জন্য বিচারটা ভাল নাও হতে পারে। আবার প্রকৃতি সত্যটা জানার পরে ছেলেটার ঘুমের জন্য পুরস্কারও পেতে পারেন!
ডিউটি অবস্থায় ঘুমানোর কারনে পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টা আপনাকে অবাক করতেই পারে। অনেক কিছু আছে দেখার পরে মনোযোগ দিয়ে ভাবতে হয়। ওই ভাবনাই পথ দেখাবে। এবার বাস্তবতা জানার জন্য ঘুমানো ব্যক্তিটার না বলা কথাগুলো জানি।
নামটা অনেকেই মনে রেখেছেন। তার পরও আবার বলি, মোঃ শাহিন মিয়া। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি। চাকুরী করেন গাজী (কোভিট-১৯) সিপিআর ল্যাব সহকারী হিসেবে। রাত দিন তার দেহে পরিহিত থাকে নিরাপত্তা পোষাক। জানা গেছে,সে প্রতিদিন ঢাকা সিটির বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। রোগীদের ও সেম্পল দিতে আসা সকলের সেম্পল রিসিভ করে ল্যাব টেকনিশিয়ান দের হাতে হস্তান্তর করে।
ল্যাবের বাহিরে ল্যাব যাওয়া আসা নিত্যদিন। ল্যাবে পরিস্কার কার, ল্যাব স্পে করা, এইসকল কাজগুলা শাহিন করে থাকে প্রতিদিন সকাল থেকে। কখন কি কাজের জন্য ডাকের ল্যাব কতৃপক্ষ সে দিকে নজর থাকে। মেরুদন্ড সোজা করে শাহিন অনেকদিন ঘুমান না।
কাজের সময় ব্যস্থ কাজ নিয়ে। ক্লান্ত হলেই কাজের ফাঁকে ঠিক এভাবে বসে একটু ঘুমিয়ে নেয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই দোয়া করেছেন শাহিনের জন্য। নিজে কেমন থাকবেন সে চিন্তা কম। সবাকে ভাল রাখার চেষ্টায় নিজেকে ব্যস্থ রেখেছেন।
