নরসিংদী প্রতিনিধি
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের আওতায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে “বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অনুর্দ্ধ ১৭ বছর” শিরোনামে একটি ফুটবল টুণার্মেন্ট মাঠে গড়ায়।
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে ক্ষুদে ফুটবলার বাছাই করার লক্ষ্যে সরকার যুব মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে এই টুনার্মেন্টের আয়োজন করে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের প্রবীণ ফুটবলার থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারগণ। কিন্তু এই টুনার্মেন্ট যখন উপজেলা পযার্য়ে শুরু হয় তখন থেকে সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। একদলে দু-একজনের বেশী স্থানীয় ইউনিয়নের খেলোয়ার খেলেতে পারছেন না।
এছাড়া সকল খেলোয়ারই দেশের নামকরা কোন না কোন ক্লাবের। এমনও দেখা গেছে খেলোয়ারদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকার মাঠে প্রিমিয়ার লীগ, তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ এমনকি জাতীয় দলের খেলোয়ারও রয়েছেন। ইতিমধ্যে নরসিংদীর মাটিতে বিভিন্ন উপজেলা পযার্য়ে খেলায় অংশ গ্রহনকারী খেলোয়ারদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাব, সাইফ স্পোর্টস, ধানমন্ডী ক্লাব, বসুন্ধরা ক্লাব, শেখ জামাল ক্লাবের খেলোয়ারগণও রয়েছেন।
সম্প্রতি নরসিংদী সদর উপজেলা পযার্য়ের ফাইনাল খেলায় নরসিংদী স্টেডিয়ামে শীলমান্দী একাদশের হয়ে খেলেছেন ঢাকার মাঠের নামকরা ফুটবলার শাহেদ, চিনিশপুরের হয়ে খেলেছেন মোকাররম, খেলেছেন মাসুম বিল্লাহসহ আরো অনেকে। এছাড়া পলাশে পৌরসভার হয়ে খেলছেন গোলরক্ষক বসুন্ধরা ক্লাবের তুষার অন্যদিকে জিনারদী ইউনিয়নের হয়ে খেলেছেন জাতীয় দলের খেলোয়ার জাবেদ খান। এছাড়া উভয় দলেই খেলেছেন আরামবাগ ও সাইফ স্পোর্টসের নামকরা খেলোয়ারগণ।
এছাড়া একই খেলোয়ার খেলে যাচ্ছেন একাধিক ইউনিয়ন বা উপজেলার হয়েও। শুধু তাই নয়, উপজেলা পযার্য়ের ফাইনাল শেষ হওয়া রায়পুরা ও বেলাব উপজেলায়ও খেলেছেন ঢাকাসহ দেশের নামকরা ক্লাবের ফুটবলারগণ। যাদের বয়স ৩০ বছরের কম নয়।
এই বিষয়ে প্রবীন খেলোয়ার তাজুল খান অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, সরকার যে উদ্দ্যেশে খেলাটি মাঠে ছেড়েছেন সেই আশা ব্যর্থ হওয়ার পথে। কেননা এখানে স্থানীয় পযার্য়ের খেলোয়ারগণ অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও দু-একজন ছাড়া কেউ স্থানীয় নয়। এছাড়া ক্ষুদে ফুটবলার বাছাই করাই ছিলো এর লক্ষ্য। কিন্তু সরকারের সেই নিয়ম শুধু কাগজে কলমেই রয়ে গেছে। বয়স ১৭ হওয়ার কথা থাকলেও মাঠে দেখা যাচ্ছে ৩০ বছরের নিচে কোন খেলোয়ার নেই। সত্যিই এই বিষয়টি লজ্জার।
এই খেলার বিষয়ে নরসিংদী শেখ রাসেল একাদশের ক্লাব ম্যানেজার মিনহাজ অনেকটা দু:খ করে বলেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই আজ ভেস্তে যেতে বসেছে। যেখানে ক্ষুদে ফুটবলার বের করার লক্ষ্যে খেলা। সেখানে মাঠে দেখা যাচ্ছে এর দ্বিগুণ বয়সের খেলোয়ার অংশগ্রহণ করছেন। সত্যিই বিষয়টি ভাবলে লজ্জা লাগে। এ এই বিষয়ে প্রশাসনকে আরো শক্ত অস্থানে থেকে কাজ করতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পযার্য়ের এক কর্মকতার্ জানিয়েছেন, আমরা চাই সরকারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খেলোয়ারদের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তখন বয়স্ক বা বহিরাগতদের উঠিয়ে দিলে তারা খেলোয়ার নিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যেতে চায়। ফলে খেলায় বিশৃঙ্খলার সৃস্টি হয়। তখন তাদের চাপের কারনে শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকা সম্ভব হয়না। তাই কোন রকমে খেলাটি শেষ করতে হয়।
বঙ্গবন্ধুর নামে অনুষ্ঠিত টুনার্মেন্টের মর্যাদা ও প্রকৃত লক্ষ্য বজায় রাখতে হলে প্রশাসনকে আরো শক্ত ভূমিকা পালনের মাধ্যমে স্থানীয় ও অনুর্দ্ধ ১৭ বছর বয়সের খেলোয়ারদের অংশগ্রহনের মাধ্যমেই খেলাটি সম্পন্ন করলে খেলার প্রকৃত লক্ষ্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিশ্বাস প্রবীন ফুটবলারদের।
