দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

নরসিংদীতে হামলা ভাংচুর

0 48

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নরসিংদী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, (০৫ নভেম্বর) নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন কান্দাপাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের উপর হামলা, মামলা,ভীতি প্রদর্শন, বাড়ীঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী জানায়, পাশের বাড়িতে দেয়ালে রং দেওয়ার কাজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়ে শেষ পর্যন্ত তা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে মুরব্বিদের সহায়তায় তা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে।  
পরবর্তীতে এলাকার ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলাম হক্কুল মেম্বারের ছোট ভাই সাগরের নেতৃত্বে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
 ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানায়, গত ৩০ অক্টোবর হক্কুল মেম্বারের উকিল জামাই রুবেল এর সাথে একই এলাকার মানিকের ভাতিজা শাহিন ও তার ভাই মামুনের রং দেয়ার কাজ নিয়ে নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঐদিন সন্ধ্যায় মেম্বার দলবল নিয়ে এসে মৃত তাইজুলের ছেলে মানিকসহ তার তিন ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে মানিকের ভাতিজা মামুনকে পিটিয়ে আহত করে হক্কুল বাহিনীর লোকজন। তাদের তান্ডবের পর থেকে বাড়িতে কেউ থাকতে পারছেনা এমনকি ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুলেও যেতে পারছেনা।  খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসলে হক্কুল মেম্বারের ভাই সাগর দলবল নিয়ে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে পুনরায় ভাংচুর করে। পরে (৪ নভেম্বর) সোমবার রাতে উজ্জলের মুদি দোকানটি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

- Advertisement -


সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে সাংবাদিকদের কাছে একে একে মুখ খোলেন এলাকাবাসী।তারা বলেন, গত ৩০ অক্টোবর বুধবার রাতে নুরালাপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য হক্কুল মেম্বারের লোকজনকেই এলকাবাসী দায়ী করছে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও আতঙ্ক কাটেনি ভুক্তভোগী পরিবারের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার রাতে কান্দাপাড়া এলাকার মানিক মিয়া ও জুলহাস মিয়ার বাড়িসহ উজ্জলের মুদির দোকান ও ছাত্র কল্যাণ সমিতির আসবাবপত্র ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট চালায় হক্কুল বাহিনী। হামলাকারী ও লুটেরাদের দলে ছিলো হক্কুল মেম্বারের ছোট ভাই সাগর গং, একই গ্রামের আহসানউল্লার তিন ছেলে সোহেল, রুবেল, পাভেল, মস্তাফিজুর রহমানের ছেলে রনি ও জনি, হাবু মিয়ার ছেলে দৌলত বাদশাহ, মতি মিয়ার ছেলে আসিফ, আবুলের ছেলে কাউসার সহ অজ্ঞাত নামা আরো ১০/১৫ জন যুবক। এ ঘটনায় হক্কুল মেম্বার নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

এব্যাপারে অভিযুক্ত হকুল মেম্বার  তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সংঘর্ষের ঘটনা শুনে তাদের নিজস্ব রিক্সাযোগে  আমি এ ঘটনার মিমাংসা করতে গেলে তারা আমার উপর হামলা চালিয়ে গলায় চেপে ধরে।এ সময় মানিক ও মামুনসহ ১০/১১ জনের হাতে থাকা রাম দা দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় জ্ঞান ফিরে আসলে আমি ভয়ে পুলিশ ও চেয়ারম্যানকে খবর দেই। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নুরালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফয়সাল ভূইয়ার কাছে হক্কুল মেম্বারের অত্যাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, হক্কুল মেম্বারের ভয়ে কান্দাপাড়া এলাকায় কেউ আতঙ্কে আছে বলে আমার জানা নাই। তবে গত ৩০ অক্টোবরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, কান্দাপাড়া এলাকায় মানিক মিয়ার সাথে দ্বন্দ্ব বাজে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফখরুলের লোকজনের। এঘটনার মিমাংসায় বসলে উভয় পক্ষের মাঝে হাতা-হাতি হয়, এসময় ফখরুল মেম্বারকে রামদা নিয়ে হত্যার উদ্যেশে তেড়ে আসে তাদের প্রতিপক্ষ। তাদের কাছে প্রায় ১১টা রাম দা ছিলো বলে অভিযোগ করে ফখরুল মেম্বার। পরে ঐদিন রাতে সমাঝোতা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু দুই পক্ষের উত্তেজনার কারনে বিষয়টি মিমাংসায় জটিলতা দেখা দেয়। এসময় ফখরুলের লোকজন পাশের একটি সমিতি ও একটি টিনের ঘরে আঘাত করে। পরে তাৎক্ষনিক আইনের সহযোগিতা নেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিবেশ শান্তু করে বলে জানান চেয়ারম্যান।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, এ ঘটনায় থানায় দুটি অভিযোগ করা হয়েছে। উভয় অভিযোগের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More