আদনান মামুন
পৃথিবীর আলো দেখেছেন আজ থেকে প্রায় ২৬ বছর আগে। জন্মের কয়েক মাস স্বাভাবিক বেড়ে উঠেন। বছর কয়েক অতিবাহিত হওয়ার পরে নাঈম এর বেড়ে উঠা অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। দারিদ্রতার সিমায় জন্ম নাঈম মিয়ার। তার পিতা-মাতা লেখাপড়া তেমন জানত না। সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টাও করতে পারেননী। অভাব-অনটন নাঈমের শারিরিকভাবে বেড়ে উঠাকে বন্ধ করতে পারলেও বন্ধ হয়নী বুদ্ধিমত্তার।
পাড়া-মহল্লার আট-দশজন ছেলেদের মতো লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগ ছিল নাঈমের। শারিরিক বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা একসময় নাঈমকে থামিয়ে দেয়। আবার চেষ্টা করেন ঘুড়ে ধারাতে। এমন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছেন নাঈম। পরিবারের বড় ছেলে নাঈম। তার ছোট এক ভাই এক বোন। তার মা-বাবার শরিরিক গঠন স্বাভাবিক। ছোট-ভাই বোন এর শারিরিক গঠন স্বাভাবিক।
নাঈমের বয়স ২৬ হলেও দেখতে ১০-১২ বছরের কিশোরের ন্যায়। নাঈম গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের জায়গীর গ্রামের কৃষক সোলায়মান সর্দারের ছেলে । নাঈম শারিরিকভাবে ছোট আকৃত্রির হওয়ায় নিজে সংসার জীবন গড়তে পারেননী। তবে তার ছোট ভাই বোনদের সংসার রয়েছে।
সোলাইমান সর্দারের পরিবারের দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সে সবার বড়। বেটে হওয়ায় তাকে অনেক বিড়ম্বনা পড়তে হয়েছে। সে ভাকোয়াদী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া-লেখা করেছে। বিদ্যালয়ে তার সহপাঠী বন্ধুদের দ্বারা তাকে বেটে বলে তিরষ্কার (মজা) করত।তাই বিব্রত হয়ে সপ্তম শ্রেণি থেকে পড়া-লেখা সমাপ্ত করে দেয় সে।
বিদ্যালয় ছাড়ার পর নাঈম তার চাচাতো ভাই শরিফের পরামর্শে তার সাথে দর্জির কাজ শিখে। ৪ বছর এ কাজে নিয়োজিত ছিলো।এসময় সে গবাদী পশু পালন, প্লাষ্টিক দিয়ে বসার মোড়া তৈরি সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেয়। তাতে তেমন সফল হতে না পেরে নিজের জমানো ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগে বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান দেয়।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সালাম সরকার জানান, হরমোন জনিত সমস্যার কারণে কারও কারও ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।
নাঈমের মা রাবিয়া বেগম জানান, দোকানের আয় রোজগার থেকে তাদের সংসার পরিচালনা করেন। এছাড়াও অবসরে শখের বসে গান, গজল সহ সংস্কৃতি চর্চা করে নাঈম। শারিরীক প্রতিবন্ধি হিসেবে সরকারি ভাতাও পায় নাঈম ।
নাঈম বলেন, আমি ভিক্ষা করি না। সহযোগিতা পেলে আমার পাড়ির পাশের দোকানটি আরো বড় করতে চাই। আর নিজে খেটে মানুষের কাছে বড়ো থাকতে চাই । আমার কষ্ট হয় তখন যখন আমাকে নিয়ে কেউ হাসি তামশা করে। আমি কাজকে ভালবাসী। কাজ করলে সমাজে সন্মান নিয়ে থাকা যায়।
