
ওমর ফারুক (শামীম), ব্যুরো চীফ, ইউরোপ: বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি ইভেন্ট এবং ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ইভেন্ট “ওয়েব সামিট” ৭০০০০ এরও বেশি বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকারী, ২৬৩০ স্টার্ট-আপ কোম্পানি, ১১২০ বিনিয়োগকারী এবং ১৬০টি দেশের ১০৪০ জন বক্তা, এবং প্রায় দুই হাজার গণমাধ্যম কর্মীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ নভেম্বর) পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বিশ্বের বৃহত্তম এই “ওয়েব সামিট” উদ্বোধন করা হয়।
এবারের সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু হল ইন্টারনেট প্রযুক্তি, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং পুঁজিবাদ উদ্যোগ। সম্মেলনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ছাড়াও এবারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪২ শতাংশ হচ্ছে নারী যা গত আসরে ছিল ২৬ শতাংশ।
১২৫টি পর্তুগিজ স্টার্ট-আপের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে আয়োজক দেশ হিসাবে পর্তুগাল এই “ওয়েব সামিট” এ প্রতিনিধিত্ব করছে। আয়োজক দেশ হিসাবে পর্তুগাল মনে করে এই আয়োজন
দেশটির ওয়েব সামিট এবং স্টার্ট-আপ ও প্রযুক্তিতে পর্তুগালের তরুণ প্রজন্মকে আরও উৎসাহিত করবে এবং তারা তাদের প্রতিভা ও মেধাকে প্রযুক্তির উন্নয়নে আরও বেশি কাজে লাগাবে।
প্রযুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা, নীতিনির্ধারন এবং বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করার উদ্যেশ্য নিয়ে ২০০৯ সালে “প্যাডি কসগ্রেভ”, “ডেভিড কেলি” এবং “ডায়ার হিকি” বার্ষিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন প্রতিষ্ঠিত করেন।
“ওয়েব সামিট” অংশীদারদের মধ্যে ফরচুন ৫০০ কোম্পানি থেকে শুরু করে স্টার্ট-আপ অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের সর্বোচ্চ ব্যবহার প্রদর্শন করবে।
হাজার হাজার অংশগ্রহণকারীদের এখানে বিভিন্ন কোম্পানির সিইও ও বিনিয়োগকারীদের সাথে দেখা করার সুযোগ রয়েছে। এটা নতুন ও মেধাবীদের অংশীদারিত্ব, ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি ও বিক্রয় বাড়ানোর জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অফিসিয়াল চুক্তির অধীনে, পর্তুগালের সরকার “ওয়েব সামিট” আয়োজকদের প্রতি বছরে ১১ মিলিয়ন ইউরো প্রদান করবে। পর্তুগাল সরকারের প্রত্যাশা এতে করে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বড় আকারের রাজস্ব যুক্ত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী যদি এই “ওয়েব সামিট” আগামী ১০ বছরের আগে পর্তুগাল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আয়োজক কমিটি পর্তুগালকে ৩ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির নতুন প্রধান নির্বাহী ক্যাথরিন মাহের, লিসবন সিটির মেয়র কার্লোস মোয়েদা এবং সমুদ্র ও অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী কস্তা সিলভাসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। আগামী বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) পর্যন্ত চলবে এই প্রযুক্তি সম্মেলনটি।
এই সম্মেলনটি মূলত ‘ডাবলিন ওয়েব সামিট’ নামে পরিচিত এবং বিশ্ব ওয়েব সামিট প্রতি বছর আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হত।
