দালালের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরে মামলা করায় দালাল কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটাচ্ছে নরসিংদীর নূরী বেগম নামের এক নারী।
অপরদিকে দালালের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর অব্যাহত হুমকি ধামকিতে বাড়িতে ফিরতে পারছেনা নূরী বেগমের ছেলে সন্তান, স্বামী ও বোনেরা। দালালকে দেয়া ৬০ হাজার টাকা ফেরত ও আহত নূরীকে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সহ দালালের উপযুক্ত বিচার দাবী করেন নূরী বেগম।
প্রতারিত নূরী বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, নরসিংদীর পাঁচদোনা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের নাম ভর সাঙ্গান। এই গ্রামের মৃত আজিজ মিয়ার ছোট মেয়ে নুরী বেগম। স্বামী রাজু মিয়া একটি রিকসা চালিয়ে অতিকষ্টে চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের ভরণপোষন করেন।
তাদের সংসারে অভাব আর অনটনের সুযোগ নিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিবেশী অহিদ মিয়া (অহু মিয়া)র ছেলে মানিক মিয়া নূরী বেগমকে বিদেশে নেয়ার ফাঁদ পাতে। নূরীকে বিনে পয়সায় সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে ২৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ দেয়ার প্রলোভন দেখায় মানিক মিয়া। দরিদ্র পরিবারের সন্তান নূরী বেগম সরল বিশ্বাসে মানিকের কথায় রাজি হয়। এই অবস্থায় নূরী বেগম ১০ হাজার টাকা খরচ করে একটি পাসপোর্টও করে। পাসপোর্ট হাতে পেয়ে মানিক তার কাছে থেকে কৌশলে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
২০১৮ সালের ১১ জুলাই বিমানে ঢাকা বনানী এলাকার মো: মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন মেসার্স এ্যালিজেন্ট নামে একটি রিক্রোটিং এজেন্সীর মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি দেয় নূরী বেগম।
সৌদিতে নূরীকে যৌনকাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করে বাসার লোকজন। এতে নূরী রাজি না হওয়ায় অত্যাচার আর নিযার্তন শুরু করে সৌদি আরবে বাসার লোকজন। এঅবস্থায় সেখানে শত অনুরোধে বাঁচার আকুতি জানায় নূরী। এভাবেই নূরী সৌদিতে তার দুর্বিষহ ৩টি মাসের লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরে। শেষ পর্যন্ত বাসার লোকজন তাকে মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় মরুভূমিতে ফেলে দিয়ে আসলে সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ২ মাস সৌদিতে জেল খাটার পর ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা পাওনা বেতন রেখেই বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় দেশে চলে আসেন নূরী বেগম। দেশে এসে দালাল মানিকের নামে মামলা করায় বাবা মা ও ভাই হারা এতিম নূরী বেগমো দালাল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাড়ি ছাড়া করে। এভাবে ৪/৫ মাস যাবৎ নূরী তার ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে দালাল মানিক মিয়ার ভয় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অবশেষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাবার ভিটে দেখতে তার বড় দুই বোন আনেছা ও নেছাকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়িতে পা দেয় নূরী। এই খবর জানতে পেরে মানিক তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নূরী বেগমসহ তার দুই বোনকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে খোলা মাঠে ফেলে দেয়। এই অবস্থায় আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে দালাল মানিকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোন খোলা পাওয়া যায় নি।
এবিষয়ে মাধবদী থানার ওসি মো: আবু তাহের দেওয়ান জানিয়েছেন, নূরীকে মারধোর করার বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। আর এই বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় দালাল মানিককে আইনের আওতায় এনে অসহায় নূরী বেগমের কাছ থেকে নেয়া ৬০ হাজার টাকা ফেরতসহ মানিকের উপযুক্ত বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
