ফরিদপুর চরাঞ্চলে চীনাবাদাম-১০ উৎপাদন কার্যক্রমের উপর মাঠ দিবস ।
এসএম আবুল বাশার ফরিদপুর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) গাজীপুর তৈলবীজ ও ডাল ফসল গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে, ফরিদপুর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ (সগবি) উদ্যোগে উচ্চ ফলনশীল ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়া উপযোগী বারি চীনাবাদাম-১০ এর কার্যক্রমের উপর কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কার্যক্রমের উপর গত মঙ্গলবার ৯ জুন ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামে বারি চীনাবাদাম-১০ এর মাঠ প্রদর্শণীর উপরে এই কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষক তারা শেখর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই, ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহম্মেদ।
আরো উপস্হিত ছিলেন (সগবি) সংশিষ্ট বৈজ্ঞানিক সহকারী কে এম গোলাম মোস্তফা। সমাবেশে অর্ধশতাধিক কৃষক-কৃষাণীসহ সংশ্লিষ্ট আরও বাহিরাগত কৃষক অংশগ্রহন করেন।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, চীনাবাদাম একটি অর্থকারী ফসল। এটি একটি উৎকৃষ্ট ভোজ্য তেলবীজ। বীজে ৪৮-৫০% তেল ও ২২-২৯% আমিষ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে চীনাবাদাম চাষ করা হয় তা মূলত চরাঞ্চলে আবাদ হয়ে থাকে। চরের অবহেলিত কৃষকেরা সাধারণত প্রচলিত জাত দ্বারা চীনাবাদাম আবাদ করে থাকে যার ফলন অনেক কম, রোগ ও পোকার আক্রমণ বেশী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি চীনাবাদাম-১০’ জাতটি ২০১৬ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়।
আরও বলেন, জাতটি স্বল্পমাত্রায় খরা ও রোগ সহনশীল। বাদামগুলো ‘ঢাকা-১’ জাতের মত থোকায় থোকায় জন্মে। স্হানীয় জাত থেকে যেখানে শতাংশে ৫ কেজি বাদাম পাওয়া যায়, সেখানে বারি চীনাবাদাম-১০ থেকে পাওয়া যায় শতাংশে প্রায় ৮ কেজি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বৈজ্ঞানীগণ বারি চীনাবাদাম-১০ নামে যে আধুনিক, উচ্চ ফলনশীল, রোগ সহনশীল জাত অবমুক্ত করেছে সেসব জাত কৃষক পর্যায়ে আবাদ হলে দেশে বাদামের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহম্মেদ বলেন,পরিবর্তনশীল জলবায়ু মোকাবেলায় উপযোগী চীনাবাদামের জাত ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন ও এসকল জাত আবাদে কৃষকের প্রতি আহবান করেন। অনুষ্ঠানে সরেজমিন গবেষণা বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত বারি চীনাবাদাম-১০ এর উৎপাদন প্রদর্শণীর মাঠে কৃষক সমাবেশে আগত কৃষক কিষাণীরা পরিদর্শণ করেন ও সেখানে কৃষকেরা নতুন জাতের অবস্হা দেখে তারা তাদের আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা আধুনিক জাতের রোগ প্রতিরোধী বীজ চীনাবাদাম প্রাপ্তিতে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণকর্মীদের অনুরোধ করেন।
