গাজীপুর প্রতিনিধি
“বন্ধুত্বই বন্ধন-বন্ধনই শক্তি” শ্লোগানটি কে সামনে রেখে শুক্রবার দিনব্যাপী নৌকা ভ্রমণ ও দিনব্যাপী নানামুখী কর্মসুচী পালন করেছে শ্রীপুরের বন্ধুদের একটি দল।
মৌসুমী ফলের বাহার নিয়ে শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের এইচএসসি ১৯৯২-৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসুচী পালন করেন। মৌসুমী ফলের সমারোহে বন্ধুদের এ উৎসব পালিত হয়। বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থায়ী করতে ওই ব্যাচটি সারাদেশে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট রয়েছে।
কর্মসুচীর আয়োজক এবং ওই ব্যাচের বন্ধু বরমী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সেলিম জানান, তাদের আয়োজনের প্রধান মাধ্যম ছিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করা। ওই ব্যাচের কমপক্ষে ৫০ জন বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি জানান, ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে সকাল ১০টায় বরমী নৌঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে তারা কাপাসিয়া উপজেলার ধাঁধাঁরচরে পৌঁছে। যাত্রাপথে নয়ানাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনের জন্য নদীর পাশে বেশ কয়েকটি স্থানে নোঙর করে। এসময় নৌকার ভেতরে সামিয়ানার নিচে বসে বন্ধুরা আমলকি, আমড়া, দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাকা কলার ছড়া, জাম্বুরা, নারিকেল মুড়িসহ বিভিন্ন জাতের ফল সাজিয়ে সকলের মধ্যে বিতরণ, র্যফেল ড্র, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক, সঙ্গীতসহ নানা ধরণের আয়োজনে পারষ্পরিক বিনোদন প্রদান করে। এসব কর্মসুচীতে বন্ধুরা ছাড়াও তাদের পরিবারের শিশু, যুবা, নারী, বৃদ্ধ সদস্যরা যার যার অবস্থান থেকে প্রতিভা প্রকাশের ভূমিকাও পালন করে।
অংশগ্রহণকারী বন্ধুরা দুপুরে নরসিংদী জেলার লাকপুরে নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে ভোজনে মিলিত হন। ভোজনের রান্না বাড়া সবকিছুই হয় নদীর পাড়ে। যান্ত্রিক জীবন থেকে প্রকৃতির সাথে নিজেদের মিলিয়ে নিতে বন্ধুদের এ আয়োজন যেন তাদের প্রত্যেকের জীবনে সফলতার এক বিরাট অংশ দখল করে রয়েছে। মানসিকভাবেও এমনটাই লালন করেন শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের এইচএসসি ১৯৯২-৯৩ ব্যাচের বন্ধুরা।
বন্ধু শিল্পপতি ও রাজনীতিক আশরাফ হোসেন জানান, শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের এইচএসসি ১৯৯২-৯৩ ব্যাচের বন্ধুরা সর্বপ্রথম চলতি বছরের মার্চ মাসে কলেজ ক্যাম্পাসে মিলিত হয়। ওই ব্যাচের বন্ধুদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, যোগাযোগ, বন্ধুদের সুখে দু:খে একজন অপরজনের পাশে থাকা এবং আত্মিক সম্পর্কোন্নয়নই ছিল ওই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তারই ধারাবাহিকতায় ব্যাচের নামানুসারে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বার্তা গোষ্ঠীও খোলা হয়। বন্ধুত্বের বন্ধন সুদৃড় রাখতে প্রতি মাসেই তাদের মধ্যে একটি করে প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। বন্ধুদের মধ্যে যাঁরা সর্বদা ওই গোষ্ঠীতে সক্রিয় এবং যোগাযোগের জন্য সর্বদা কাছাকাছি থাকেন কেবল তারাই গোষ্ঠিটাকে চাঙ্গা রাখতে প্রতি মাসেই একত্রে মিলিত হওয়ার উদ্যোগটি সম্পন্ন করেন।
বন্ধু ডা. আকবর হোসেন জানান, গোষ্ঠীতে সর্বদা সক্রিয় বন্ধুদের একজন স্বেচ্ছায় সামাজিক যোগাযোগ গোষ্ঠীতে তার আমন্ত্রন জানান। এক মাসে কেবল একজন বন্ধু আমন্ত্রণ জানিয়ে স্বেচ্ছায় নিজ অর্থায়নে অন্য সকল বন্ধুদের আপ্যায়ন করেন। তবে এ উদ্যোগটি শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের এইচএসসি ১৯৯২-৯৩ ব্যাচের কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসুচী নয়।
বন্ধুদের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জানান, এ ব্যাচের কেন্দ্রীয় কর্মসুচী বছরে কেবল একবারই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর বাৎসরিক মিলনমেলায় কমপক্ষে পাঁচ’শ বন্ধুর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য ইতোমধ্যে বন্ধুরা কাজ শুরু করছেন। বছরে অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলো সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নয়। এগুলো একান্তই কোনো বন্ধুর ব্যাক্তিগত উদ্যোগ।
বন্ধু সাংবাদিক ও কলেজ শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ সোহেল জানান, বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থায়ী করতে ওই ব্যাচটি সারাদেশে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট রয়েছে।
ওই ব্যাচের বন্ধুরা বর্তমানে প্রত্যেকেই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত থেকে মানবকল্যাণে ভূমিকা রাখছেন। তাদের কর্মসুচীর এ ধারাবাহিকতা যেন সর্বদাই বন্ধুদের প্রাণের মিলনে আবদ্ধ রাখে। এমন প্রত্যাশাও করেন ওই ব্যাচের বন্ধুরা।
শুক্রবারের ওই কর্মসুচী রাত ৯টায় নৌকাযোগে বরমী নৌঘাটে এসে শেষ হয়। প্রাণবন্ত ক্লান্তিহীন এ কর্মসুচী বন্ধুদের প্রত্যেককে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পাথেয় হয়ে থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
