তাহিরপুর সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলাটি মেঘালয় পাহাড় ভারতের সীমান্ত ঘেসে অবস্থিত। বিভিন্নভাবে তাহিরপুর উপজেলা একটি অবহিলিতো উপজেলা। উপজেলায় অবস্থিত বড়ছড়া, বাগলী, ছাড়াগাঁও তিনটি শুল্ক স্টেশন।এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ্য লক্ষ্য টাকার কয়লা আমদানি হতো। তখন এখানে ছিল শ্রমজীবি মানুষের আনাগোনা।
প্রতিদিন মুখোর হয়ে থাকত এসব শুল্ক স্টেশন।এই শুল্ক স্টেশনে দিন রাত শ্রমিকরা কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, এই তিনটি শুল্ক স্টেশন মিলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন সেখানে। সকল সময়ই শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো থাকলেও বর্তমানে নীরব, নিস্তব্ধ। করোনা পরিস্থিতির কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা। আর কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই শুল্ক স্টেশনের শ্রমিকরা।
সূত্র আরও জানায়, উপজেলার এ ৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা-চুনাপাথর আমদানি বন্ধের শুরুটা হয়েছিল ভারতীয় পরিবেশবাদী সংগঠন, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) এর পরিবেশ বিপর্যয়জনিত অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ২০১৪ সালে মেঘালয় উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের মাধ্যমে। এর পরই সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
পরে ২০১৫ সাল থেকে প্রায় স্থায়ী ভাবেই কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে অল্প কিছু দিনের জন্য আমদানি কার্যক্রম শুরু করা গেলেও মুখর হওয়ার আগেই আবার নীরব হয়ে যাওয়াটাই রীতিতে পরিণত হয়েছে। আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা ধরেই নিতো কিছু সময়ের জন্য সুযোগ দেয়া হচ্ছে এবং তা যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাবে।
সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে গত ২৩ মার্চ হতে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া, বাগলী, ছাড়াগাঁও এই তিনটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ আছে।
সূত্রে জানা যায়,এই দেশের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই পূরণ করে ভারত থেকে আসা কয়লা। বাগলী, চারাগাঁও ও বড়ছড়া শুল্ক বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০টি ট্রাক ভারত থেকে কয়লা-চুনাপাথর আনা নেওয়ার কাজ করে। তাছাড়া দেশ-বিদেশের কয়েক শতাধিক আমদানিকারক নিয়মিত কয়লা আমদানি করে আসছেন কয়েক যুগ ধরে। এ আমাদানি কাজের সাথে স্থানীয়ভাবে হাজার হাজার শ্রমজীবী পরিবারের আয় রোজগার জড়িত।
সরকারও বছরে প্রায় শত কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় করতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
কয়লা আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমদানি বন্ধ হওয়ায় অনেক আমদানিকারক রয়েছে যারা বড় অংকের ব্যাংক লোণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন সে-সব আমদানিকারকরা অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দুশ্চিন্তা আর হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তাছাড়া আমদানি কার্যক্রমের সাথে জড়িত সকল শ্রমিকরাও বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।এতে করে এই তিনটি শুল্ক স্টেশনের শ্রমিকরার পরিবারের জীবন সুখে কাটতো।এই শুল্ক স্টেশনে ব্যবসায়িক বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিতো। সেখানে তারা বিভিন্ন পেশার মানুষকে কাজে লাগাতো।আর এখন এই শুল্ক স্টেশন বন্ধ হওয়ার কারনে আশে-পাশের এলাকার মধ্যে বেকারত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
