মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক গৃহবধূ (৩০) কে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাজলপুর গ্রামের মুনসুর মাষ্টারের ছেলে মো. আশিস (৪০) একই গ্রামের পাশের বাড়ির গৃহবধূকে বিভিন্ন সময়ে কু-প্রস্তাব দেয়াসহ শ্লীলতাহানি করে আসছিল।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই সন্তানের জনক অটো চালক আশিস গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক টানাহেচরা করে বাড়ির পাশে একটি বাগানে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, এর আগে দেড় মাস পূর্বে আশিসের বিরুদ্ধে ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় ওয়ার্ড সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন সালিশ বৈঠক করে ঘটনার সমাধানের নামে ধামাচাপা দিয়েছেন। আশিসের পুনরায় একই অপকর্মের জন্য স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ সময় ভুক্তভোগী গৃহবধু বলেন, প্রায় ৫ বছর যাবত ঢাকা থেকে গ্রামে এসে স্বামী সন্তানদের নিয়ে এখানে বসবাস করছি। লম্পট আশিস এক বছর আগে আমাকে কু-প্রস্তাব দেয়। তার কু-প্রস্তাবে আমি রাজি না হলে গত দেড় মাস পূর্বে আশিস আমাকে প্রথম শ্লীলতাহানি করে। মানসম্মানের কথা চিন্তা করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশ বৈঠক করে আশিসকে সাবধান করেন।
চলতি মাসে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে আমাকে ঝাপটে ধরে টানাহেচরা করে বাড়ির পাশের বাগানের নেয়ার চেষ্টা চালায়। আমার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে আশিস পালিয়ে যায়।
গৃহবধূ পরিবারের লোকজন অভিযোগ তোলে বলেন, আশিস এখনও বিভিন্ন ভাবে তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমাদের পরিবারের লোকজনের ক্ষতি হবে বলে হুমকি প্রধান করেন।
গৃহবধূর স্বামী সাহেদুল ইসলাম জানান, এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাই। এ ঘটনার আগের ঘটনায় সালিশগন আসিসকে এ ধরনের অপকর্ম পুনরায় না করার জন্য সাবধান করেন।
আশিস পুনরায় এধরনের অপকর্মে লিপ্ত হলে তাকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রীম জরিমানা দিতে হবে ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থ নেয়া হবে মর্মে লিখিত সাক্ষরও নেন বিচার শালিশে থাকা ব্যক্তিরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত আশিসকেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার মোঠো ফোন নাম্বার নেই বলে পরিবারের লোকজন জানান।
আশিসের ছোট ভাই ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. ওহিদুলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শুনেছি থানায় অভিযোগ হয়েছে। সে যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে।
শ্রীনগর থানার এসআই ও অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আশিকুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত আশিসকে ধরার জন্য একাধিক অভিযান চলানো হচ্ছে। গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ধরনের অপরাধ বিচার সালিশ গ্রহনযোগ্য না হলেও স্থানীয় সমাজপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কুকুটিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল চৌধুরী এর আগেও একই ঘটনার বিচার সালিশ করে সমাধান করে দেন বলে জানাযায়।
