দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

আর কবে আল্লায় মুখ তুইল্লা চাইব?

0 82

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এস আল-আমিন খানঁ পটুয়াখালী জেলা-প্রতিনিধিঃ

আম’গ কলিজায় পানি থাকে না, একটু বাতাসের আওয়াজ কানে আইলে। একে ত নদীর পার বাড়ি। আবার কাঠ বাশের খুটির ঘর। কপাল খারাপ। মো গ কপাল খারাপ। বেটা বেটিদের স্কুলে পাঠাই সুন্দর জামা কিনার পয়সা নাই। তিন বেলা খাবার জোগাতে কাজ করতে করতে হাফিয়ে যেতে হয়। এমন ভাবেই বলছিলে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা এলাকার আগুনমুখা নদীর পারের বাসিন্দা অসহায় মস্তফা সরদার।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে সব হারিয়ে পথে বসে গেছেন অসহায় মস্তফা সরদার (৫০) এবং তার পরিবার। মস্তফা সরদার হচ্ছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের মৃতঃ মতলেব সরদারের ছেলে।

সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহে গেলে হতদরিদ্র মস্তফা সরদারের স্ত্রী বলেন, আগুনমুখা নদীর পাড়ে আমার বাড়ি। বড় বা ছোট ঝড় আসলেই সর্ব প্রথম আমি বুঝতে পারি এবং সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আমার ঘরের উপরের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে যায়। ঘরের মাটি ভিটি পানিতে ধুয়ে গেছে। আমি গরিব মানুষ কীভাবে যে আবার ঘর তুলব তা ভেবে পাচ্ছি না।

- Advertisement -

দিন মজুর মোস্তফা বলেন, আমার বাবা ও মা গরিব ছিল। লেহা পড়া করাইত পারে নায়। বড় সংশার ছিলত। ছোড কাল থাইকা দিন মজুরের কাজ কইরাই খাই। এহন আমার পরিবারে আল্লার মাল ও বৌসহ ৬ জন। আর কবে আল্লায় মুখ তুইল্লা চাইব?

প্রতিবন্ধি বোন আমার। বেলি বেগম (৪০)। সে যদি সরকারের সাহয্য পাইত তবে উপকার হইত। এখন বোনের পরিবারের ভরণ পোষণও করতে হয়। প্রায় ত্রিশ বছর ধইরা ভাল খাবার কেমন বলতে পারতাম না। এসব কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন মোস্তফা। এমন সময় পাশেই ছিলেন, ছেলে মেয়ে স্ত্রী ও বোন। তারাও নিরবে ঝড়িয়েছেন অশ্রু।

এবিষয়ে মস্তফা সরদারের প্রবিবন্ধী বোন বেলি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমাগো নেত্রী শেখ হাসিনা সকলকে ঘর দেয় বলে শুনেছি। আমিও তার কাছে ১টি ঘর পাওয়ার আশায় আছি। আমার বিশ্বাস তিনি আমাদেরকে অবশ্যই ১টি ঘরের ব্যবস্থা করে দেবেন। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী একজন দিন মজুর। প্রতিদিন যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। ঘর তুলব আবার কী করে?

এ বিষয়ে ওই এলাকার ইউপি সদস্য রফিক খলিফা জানান, আসলেই মস্তফা সরদার একজন গরীব মানুষ, দিন মজুর। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে তার ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাকে ১টি সরকারি ঘর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। আমি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাদি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি।

সরকারি ঘর আসলে তার জন্য বরাদ্ধের ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার নিজের জায়গা থাকলে সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More