এসএম আবুল বাশার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
দাদা-নাতনী প্রেমীক প্রেমিকা জুটি! এলাকার অনেকেই ঠাট্টা করে বলতেন। তাদের মধ্যে মিল মোহাব্বত দেখে এলাকার বিভিন্ন বয়সের লোকজন লাইলী মজনু জুটি বলেও ডাকতেন। তবে এসব কথা গুলো জোসনা ও কাওসার শেখ কষ্ট নিতেন না। আশপাশের লোকজনের এসব কথায় তারা আনন্দই পেয়েছেন। এক সময়ের ঠাট্টা, জোসনা ও কাওসার শেখ বাস্তবতায় রুপ দিবেন তা কি আর এলাকার লোকজনের জানা ছিল।
দাদার ভালবাসা নাতনীর প্রতি থাকাটা স্বাভাবিক। নাতনি দাদাদের কাছে আদরের হয়ে থাকেন। নাতনীদের বয়স কম হয়। দাদার বয়স বেশি হয়। দাদা ও নাতনী দেখা করবেন, কথা বলবেন এ জন্য সময়ের বাচ-বিচার প্রয়োজন মনে করেন না কেউ। জোসনা স্বামী হারা হয়ে প্রায় ৫ বছর প্রবাসে ছিলেন।
জানা গেছে, স্বামী হারা জোসনা বিদেশ থেকে দেশে আসার পরে পাশের বাড়ির কাওসার শেখ জোসনাদের খোঁজ খবর রাখতেন। প্রায় ১০ বছর আগে জোসনার স্বামী আশরাফ শেখ মারা গেছেন। এখন জোসনার বয়স প্রায় (৪০) আর দাদা কাওসার শেখের বয়স (৬২)। এলাকায় দাদা ও নাতনী প্রেমীক প্রেমকা জুটি কথাটা কথিত হলেও এখন তা বাস্তবতায় রুপ পেতে বসেছে।
দাদা কাওসার শেখের ভালবাসার ফসল নাতনী জোসনার পেটে বড় হতে শুরু করেছেন তা পরিক্ষার আগেই টের পেয়েগেছেন এলাকাবাসী। জোসনার পেট ও চলাফেরা স্বাভাবিক নেই। নিজের শারিরিক পরিবর্তন আসতে দেখে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পরিক্ষা করানোর জন্য গিয়ে জানতে পারেন পেটে সন্তান বড় হচ্ছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে এবার দাদা-নাতনীদের মধ্যে ভালবাসা গভির না হয়ে ফাটল ধরে। একজন অপরজনকে সইতে পারেন না। এমন অবস্থায় এলাকায় উভয় পরিবারের লোকজনের মধ্যে এ বিষয়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনা হয়। জোসনার পেটের সন্তানের বিষয়ে কাওসার শেখ দাদা কিছুই জানেন না। এর পরে নাতনী জোসনা আইনের আশ্রয় নেন। এর আগেই জোসনা বেগম পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
বিধবা জোসনা পুত্র সন্তান কুলে নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন ৬২ বছরের দাদা কাওসার শেখের বিরোদ্ধে। অভিযোগ করেন জেলার মধুখালী থানায়। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের পুরান মধুখালীতে প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী আশরাফ শেখ মৃত্যু বরন করেন। স্বামীর মুত্যুর পর থেকেই বাড়ীর পাশের মৃত ওমর আলী শেখের ছেলে কাওসার শেখ (৬২) বিভিন্ন অযুহাতে ও ছলনায় ভুলিয়ে ভালিয়ে জোসনা বেগেমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন । প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
প্রেম আর দাদার ভালবাসা নিয়ে জোসনা বেগম জীবনের চাকা সচল করতে সৌদি আরব প্রবাসী হন। উভায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। সৌদি আরবে ৩ বছর অবস্থানের সময় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জোসনা বেগম তার মা রেবেকা বেগমের কাছে পাঠান। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে রেবেকা বেগমের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন কাওসার শেখ । ৩ বছর পূর্বে জোসনা বেগম প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাড়ীতে ফিড়ে আসেন। জোসনা বেগম বাড়ীতে আসার পর কাওসার শেখ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত শারীরিক মিলামিশা করতে থাকেন। টাকার হিসাব চাইলে ১ লক্ষ টাকার ঘর তৈরীরর হিসাব দেন কাওসার
শেখ । বাকী টাকার জমি লিখে দিবেন এবং বিয়ে করবেন প্রলোভনে নিয়মিত শারীরিক মিলামিশা করতে থাকেন। জমি আর বিয়ের আশায় সব উজার করে দেন কাওসার শেখকে জোসনা বেগম। তাদের এ মিলামিশায় সন্তান সম্ভবা হলে জোসনা বেগম কাওসার শেখকে জানান এবং দ্রুত বিয়ের চাপাচাপি করলে আল্ট্রাসোনগ্রামের মাধ্যমে জোসনা বেগম মা হচ্ছেন নিশ্চিত হয়ে দুরত্ব বজায় রেখে চলেন কাওসার শেখ। বাচ্চা নষ্ট করতে চাপ দেন তিনি এ দিকে এক দুই করে সময় গড়িয়ে যায় অনেক দুর। পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে জীবনের ঝুকি আছে ডাক্তার জানালে এবং এলাকায় জানাজানি হয়ে যায় । লোকচক্ষুর অন্তরালে যথা
সময়ে দাদার দেওয়া একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন জোসনা বেগম । চেষ্টার করে জোসনার পরিবার বিয়ে এবং সন্তানের স্বীকৃতি আদায় করতে ব্যার্থ হয়। কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হয় না। জোসনা বেগম মধুখালী থানায় বিয়ে এবং সন্তানের স্বীকৃতির দাবীতে একটি অভিযোগ দিলে প্রতারক প্রেমিক দাদা ঘরবাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ এবং এলাকাবাসী প্রেমিক দাদা কাওসার শেখকে খুজছে। কাওসার শেখ ও জোসনা বেগমের একই পাড়ায় বাড়ী হওয়ায় তারা সম্পর্কে দাদা এবং নাতনী ।
এ ব্যাপরে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আমিনুল ইসলামের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
তিনি আরো জানান, যেহেতু দুজনের সম্মতিতে শারীরিক মিলামিশা হয়েছে ধর্ষন বলা যায় না,যে কারনে জোসনা বেগম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সন্তানের পিতার পরিচয়ের জন্য কোর্টে মামলা করতে হতে পারে জোসনা বেগমের । ডিএন এ পরীক্ষার মাধ্যমে কোর্ট ফায়সালা দিতে পারবে জোসনা বেগমের সন্তানের পিতা কে ?
