সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

বর্ষা আগমন। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খালে-বিলে ও নদীতে পানি বেরেছে। এতেই বর্ষা কালের মতোই পারি আর পানি খালে-বিলে। ঐতিহ্যবাহী কাইকারটেক হাটে নৌকা ও মাছ ধরার জালের জন্য বিখ্যাত। এ হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে লোকজন আসেন মাছ ধরার জাল ও উপকরণ কিনার জন্য। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাইকারটেক সাপ্তাহের রোববার হাট জমে।
আজ রোববার ( ২১ জুন) বিকালে অভিযান সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসন কাইকারটেক হাটে অভিযান চালায়। এ অভিযান চালানোর আগে হাটের মালিক সমিতির লোকজন ও ইজারাদারদের কোন প্রকার নোটিশ না দিয়েই অভিযান পরিচালনা করেন প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।
হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারদেনা ও কিস্তিতে টাকা নিয়ে ব্যবসা করেন বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা বলেন, আমাদেরকে যদি নিষেধ করা হতো তা হলে আমরা আসতাম না। হাটের ইজারাদার যারা অঅছেন তারাও আমাদের নিষেধ করেননী। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। এমনেতেই করোনা ভাইরাসের কারনে কাজ কাম করতে পারি নাই। বর্ষা কালে মাছ দরার জাল বিক্রি করি। আমরা এখন কিস্তির টাকা ও ধারদেনার টাকা কেমনে পরিশোধ করব? এমন হতাশা ক্ষতিগ্রস্তদের।
কাইকারটেক হাট থেকে আনা কারেন্ট জালগুলো পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আগুন দিয়ে পোড়িয়ে দেয় প্রশাসন।
উপজেলা জৈষ্ঠ্য মৎস্য কর্মকর্তা মাহামুদা আক্তার এ বিষয়ে বলেন, উপজেলার মোগরাপারা ইউনিয়নের কাইকারটেক হাটে অভিযান চালানো হয়। এসময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রির সময় ১ লাখ ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে তার নির্দেশে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার কথা বলে জানান, প্রশাসন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নয়ত হাটের ইজারাদারদের মাধ্যমে নিষেধ করে দিতে পারতেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩১ লক্ষ টাকার জাল আগুনে পুড়িয়েছে। এত কনেকের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। যে কয়েকজন ব্যবসায়ীর জাল পুড়ানো হয়েছে তাদের অনেকেই দেনা দায়ে পরে যাবেন।
