এসএম আবুল বাশার ফরিদপুর থেকেঃ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ছবুল্যা শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামে পদ্মার ভাঙনে স্কুল ও বাড়িঘরসহ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় নদী বুকে চলে যাবে এসব এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ি ঘর।
সরেজমিন ঘুরে , শনিবার দুপুরে ও রোববার সকালে ভাঙনকবলিত পদ্মা পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা পাড়ের গ্রামে মাথায় বড় একটি ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় ফাটল ভেঙে পড়ে স্কুলসহ অর্ধশত বাড়িঘর পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এখানকার মানুষ অসহায় হয়ে ভাঙ্গনের দৃশ্য নিরবে দেখছেন। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহব্বানও করছেন ভাঙন ঠেকানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার।
হুমকির মুখে বসবাসকারী কয়েকজন এলাকাবাসীরা জানান, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় এই গ্রামের বাড়িঘর, গাছপালা, ফসলী জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। নাসির, মনির, হোসেন আলী অভিযোগ করে বলেন, ভাঙন রোধে এখনো স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এমন অবস্থায় কয়েকদিন গেলে আমাদের সব নদীতে চলে যাবে। আমাদেরসহ স্কুল ও অন্যান্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
ভাঙন কবলিত এলাকার ইউপি’ সদস্য ছালাম ফকির জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে ভাঙন পরিদর্শন করে গেলেও এখনো তারা ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই। তিনি বলেন, আমি ভাঙনের ব্যাপারে জানাতে ইউএনও স্যারকে ফোনে চেষ্টা করে তাকে পাইনি। পরে আমি পিআইও সাহেবকে ভাঙনের বিষয়টি জানিয়েছি।
তিনি আরো জানান, ভাঙনকবলিত গ্রামে গত বছর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গ্রামের শেষ পদ্মা পর্যন্ত ভাঙন প্রতিরোধে ছয় হাজার বালির বস্তা বরাদ্ধ থাকলেও ২৭শ’ বস্তা ফেলে বাকি বস্তা গুলো তারা অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। গত বছর যদি এখানে সব বস্তাগুলি ফেলতো তাহলে, এবছর এখানে এতোটা পদ্মায় ভাঙতো না বলে তিনি জানান।
এভাবে ভাঙতে থাকলে খুব দ্রুত স্কুল সহ অন্যান্য বাড়িঘরগুলো পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে। তিনি এসময় ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উক্ত গ্রামের বাসিন্দা মানিক জানান, গত রাতে আমার বসতভিটে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমি পরিবার নিয়ে রাস্তার ওপর ঘর বানিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
ছবুল্যা শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আমরা রাতে ঘুমাতে পারিনা। পদ্মার ভাঙনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কখন যেন আমাদের পুরো গ্রামটাই পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এব্যাপারে জানতে চেয়ে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। করোনা মহামারির কারনে একাদিকবার অফিসে গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি। এ কারনে তার বক্তব্য দেয়া যায়নি।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আগে কেউ বলেনি। আপনাদের মাধ্যমে আমি জানলাম। এবিষয়ে আজই আমি এক্সচেঞ্জ এর সাথে আলোচনা করবো।
