দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

অবৈধ অভিবাসী নিয়ে ইতালি-আলবেনিয়ার চুক্তি: মানবাধিকার কমিশন গুলোর নিন্দা!!!

0 41

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ওমর ফারুক (শামীম), ব্যুরো চীফ, ইউরোপ: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সোমবার (৬ নভেম্বর) বলেছেন, ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টাকারী অভিবাসীদের থাকার জন্য আলবেনিয়ায় দুটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের লক্ষে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কারন তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অবৈধ অভিবাসীদের পরিসংখ্যান বছরে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

আগামী বসন্ত থেকে এই নীতি কার্যকর করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০০০ লোক নেওয়া হবে এবং সবগুলো কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে গেলে বছরে ৩৬০০০ অভিবাসীকে পাঠানো যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবৈধ অভিবাসন সীমিত ও নিয়ন্ত্রণ করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালিতে মেলোনির সরকার ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে ১৪৫০০০ এরও বেশি মানুষ ইতালির উপকূলে পৌঁছেছে, যা গত বছরের লোকের তুলনায় ৮৮০০০ বেশি।

রোমে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ও আলবেনিয়ার মুখপাত্র এদি রামার মধ্যে এই চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধ ভাবে আসা অভিবাসী বৃদ্ধি রোধ করার লক্ষ্যে এই চুক্তিকে “উদ্ভাবনী সমাধান” হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেলোনি বলেন, অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন এমন একটি ঘটনা যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সকল সদস্য রাষ্ট্রগুলিকেই মোকাবিলা করতে হয় কিন্তু একটি বৃহৎ অংশকে ইতালির একা মোকাবেলা করা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন এই সমস্যা মোকাবিলায় সকল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় নন-ইইউ দেশগুলি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আলবেনিয়াকে প্রায় এক দশক আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এখনও ব্লকে যোগ দেওয়া হয়নি।

- Advertisement -

আলবেনিয়ার মুখপাত্র রামা বলেন, ইতালি যদি আলবেনিয়াকে ডাকে, সেই ডাকে সাড়া দিতে তারা সব সময় প্রস্তুত।

মেলোনি বলেন “ইউরোপীয় ইউনিয়ন” এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সমন্বয় রেখেই এই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মান করা হবে। আলবেনিয়ান বন্দর শেংজিন এবং গজাডারে তৈরি করা হবে এই আশ্রয় কেন্দ্রগুলি।

একটি কেন্দ্র ব্যবহার করা হবে সাগর থেকে নৌকা দ্বারা উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের। দ্বিতীয়টিতে ইইউতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করার যোগ্য অভিবাসীদের রাখা হবে। কিন্তু যারা আশ্রয়ের আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করবে না তাদের কী হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে মেলোনি সরকার মনে করে এই নীতি অবৈধভাবে ইতালির উপকূলে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা কমাবে।

মানবাধিকার আইনের কারণে “ইইউ”এর দেশ গুলো তাদের দেশে আগত অবৈধ অভিবাসীদের সহজে বের করে দিতে পারে না বরং আশ্রয়ের জন্য আবেদন করার অনুমতি দেয়। যেহেতু আলবেনিয়া ইইউ সদস্য নয়, তাই এই আইনগুলি সেখানে প্রযোজ্য হবে না।

যেহেতু ইতালি এই অবৈধ অভিবাসীদেরকে ভূমধ্যসাগর থেকে সরাসরি আলবেনিয়ায় নিয়ে যাবে তাই আলবেনিয়ার সাথে এই চুক্তিটি ইতালিকে ডাবলিন চুক্তিটি মানতে বাধ্য করবে না কারন সেই চুক্তিতে বলা হয়েছে যে অভিবাসীরা প্রথম যে দেশে আসবে সেই দেশকে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাদের মামলাগুলি নিষ্পত্তি করতে হবে।

আলবেনিয়াতে আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করার জন্য ইতালি জনশক্তি সরবরাহ করবে, তবে আলবেনিয়া নিরাপত্তা এবং নজরদারির জন্য পুলিশ সরবরাহ করবে।মেলোনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা এবং অন্যান্য দুর্বল গোষ্ঠীকে আলবেনিয়াতে পাঠানো হবে না।

এই চুক্তি সম্পর্কে ইউরোপীয় মানবাধিকার কমিশন নিন্দা জানিয়ে বলেন “ইতালীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের বিস্তারিত দেখতে হবে”। ইউরোপীয় মানবাধিকার কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা ইতালীয় কর্তৃপক্ষকে এই চুক্তির বিস্তারিত দিতে বলেছি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More