দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চায় ছোবেরা খাতুন

0 207

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ছোবেস্তা খাতুন ওরফে ছোবেরা খাতুন আশ্রয় হারা হয়ে পড়েন। ছোবেরা পরিবার পরিজন নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী ইউনিয়নের বান্টি গ্রামের রাস্তার পাশে সরকারি জমি জঙ্গলে ঢাকা গণপূর্ত পরিষ্কার করে সেখানে টিনের চাল তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। ছোবেরার তিন মেয়ে দুই ছেলে তাদের মধ্যে এক ছেলে রবিন (২৫)। সে দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় কাতরাচ্ছে। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করতে পারে না মা ছোবেরা।

এক বেলা মানুষের বাড়িতে কাজ করে আর সারাদিন গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেই চলে ছোবেরার সংসার। দীর্ঘ ৪৫ বছর যাবৎ এখানে বসবাস করছেন ছোবেরার পরিবার পরিজন নিয়ে। তার সন্তানেরাও পরিবার পরিজন নিয়ে এক সাথেই আছেন। ছোবেরার আয়ে চলে ১০জনের সংসার। এদিকে অসুস্থ রবিনের দুই মেয়ে এক ছেলে। দুই মেয়েই স্কুলে লেখাপড়া করেন। রবিন অসুস্থ্য হলেও মা ছোবেরা বসে থাকে নি। তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে ও গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করে সংসারের হাল ধরে রাখেন।

শত অভাবের পরও রবিনের দুই মেয়েকে লেখাপড়া চালাতে পিছপা হন নাই মা ছোবেরা খাতুন। তাদের যাবার কোনো জায়গা নেই। বর্তমানে উচ্ছেদ আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে তাদের। এ এলাকার প্রভাবশালী মহল ওই স্থানটি ঘিরে দিয়েছেন। প্রভাবশালী মহল হুমকির শুরে চলে যেতে বলা হয়েছে ছোবেরা খাতুনের পরিবারকে। এতে অসহায় ছোবেরা খাতুনের পরিবারের মাঝে হতাশা আর কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেছে। এক খন্ড সরকারি খাস জমি পাওয়ার আশায় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো লাভ হয়নি তাদের।

- Advertisement -

কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই এদের উচ্ছেদ করা হলে এরা যাবেন কোথায় এদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা না করে উঠিয়ে দেওয়া অমানবিক হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রভাবশালী মহল এখানে অবৈধ ডাইং কারখানা তৈরির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ছোবেরা জানান, জায়গা পতিত হয়ে পড়ে থাকায় সেখানে জঙ্গলে ভরে ছিলো। তাই আমরা কিছু অসহায় মানুষ জঙ্গল পরিষ্কার করে বসবাস শুরু করি। এখন আমাদেরকে এখান থেকে উচ্ছেদ করা হলে আমরা যাবো কোথায়?

আমাদের তো যাবার কোনো জায়গা নেই। আমরা অনেক কষ্টে আছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল মিনতি যে, পরিবার পরিজন নিয়ে ঠিক মতো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারি এমন এক খন্ড সরকারি খাস জমি দিলে আমি আমার অসুস্থ ছেলে ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম। সর্বপ্রথম ছোবেরা এই স্থানে বসবাস শুরু করেন। আস্তে আস্তে অনেক পরিবার এই স্থানটি বসবাসের জন্য বেঁছে নিয়েছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More