নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা থেকে নব্য জিএমবির সদস্য ফরিদউদ্দীন রুমি নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন তক্কার মাঠ এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এই বাড়িটি রুমিদের আর একটি বাড়ি ছিল। ভোরে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। পাশের একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার ৫টি হামলা ও হামলার চেষ্টার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে। বাড়িটিতে বোমা তৈরির সরঞ্জম পাওয়া গেছে। যা বিগত দিনে ঢাকায় যেসব বিস্ফোরণ উদ্ধার করা হয়েছে তার সাথে মিল রয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন তক্কার মাঠ নামক এলাকায় অবস্থিত একটি বাড়িতে অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। ওই বাড়ির মালিক বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম জয়নাল আবেদীন। এর আগে, তার দুই ছেলে ও পুস্ত্রবধূকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। আটককৃত ফরিদউদ্দীন রুমি ঢাকার আহসানউল্লা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল এবং প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক, ফরিদউদ্দীনের স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনু অগ্রণী ব্যাংকের কর্মী ও ফরিদউদ্দীনের ভাই জামালউদ্দীন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) এর শিক্ষক।
তিনি বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের আরও বেশ কয়েকজন সহকারী আছে। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। রুমির সাথে নব্য জেএমবির সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে। রুমিদের বসতবাড়ি থেকে আটকের পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় একি এলাকায় তাদের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড বাড়ি বয়েছে। সে বাড়িতে গোপনে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মূলত বাড়িটি ব্যবহার হতো বোমা তৈরির ল্যাব হিসেবে। ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমান বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়িতে বোমা বিশেষজ্ঞ দল ও রোবট পাঠিয়ে পয়ৃবেক্ষণ করে। তাদের দেয়া তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।
বাড়িটিতে চারটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বাড়ির ভিতর কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনী। এর আগে দুপুর ১২ ৫৭ মিনিটের দিকে ওই বাড়ি থেকে প্রথম বোমা বিসে।পারণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়। এ সময় আশপাশ এলাকার লোকজন ভয় পায়। বিস্ফোরণের কারণে এলাকা কেঁপে উঠে।

কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান আরও বলেন, পুলিশের উপর হামলা চালানোর জন্য পরিকল্পনাসহ পুলিশ বক্সগুলোতে তাদের টার্গেট ছিল। নারায়ণগঞ্জের ওই বাড়িটিতে রেডি আইডিসহ এক্সপ্লোসিভ তৈরির বিভিন্ন ধরণের যে আলামত পাওয়া গেছে তা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাথে কথা হয়েছে তাতে জানা গেছে বিগত দিনে পুলিশের উপর হামলার আলামতের সাথে এগুলোর মিল রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ বাড়িটিতে যারা আসত মাঝেমধ্যে তারাত অনেক শিক্ষিত লোক। শিক্ষিত মানুষ এত বড় খারাপ কাজের সাথে জড়িত ভাবতে খারাপ লাগে। এ জন্য এবাড়িতে আশপাশের লোকজন আসা যাওয়ার সুযোগ পেতনা। তারা সবার সাথে মিশতও না। কখন আসত কখন যেত তাও অনেকে জানত না। এই বাড়িতে যারা আসত মাঝেমধ্যে তারা আশপাশের দোকানেও বসত না। কারও সাথে চলতও না। কারও বাসাও যেতনা।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহকারী কমিশনার মো. তৌহিদ ইসলাম জানান, আমাদের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা শর্তকতার সাথে ভিতরে কাজ করেছে। বাড়ির ভিতরটাতে ল্যাবরেটরির মত আনেক কিছু সাঁজানো ছিল। সেখানে ইমপ্রোভাইসড,এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসও (আইইডি) পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকায় একটি টিনশেড বাড়িতে সকাল সোয়া ১১দিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট বিস্ফোরকের খোঁজে তল্লাসীর জন্য প্রথমে একটি রোবট দিয়ে তল্লাশী চালায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন নানায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনেকেই।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযান শেষে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফ করে অভিযান শেষ করেন। এসময় বলেছেন, আমাদের অভিযান চলতে থাকবে। জঙ্গিদের বিরোদ্ধে সন্ধান পেলে প্রশাসনকে জানান।
