মোয়াজ্জেম বিন আউয়াল
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সাতগ্রামের পাঁচরুখী ও দুপ্তারার পাঁচগাও মৌজায় গড়ে উঠছে জাপান বাংলাদেশ যৌথ জাইকার অর্থায়নে অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়নের পথে। এ জোন চালু হলে বদলে যাবে এখানকার চিত্র। আড়াইহাজারের বুকে ইকোনোমিক জোন হওয়ায় আনন্দ এখানকার লোকজনের মধ্যে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহন সম্পন্নের পথে।
দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে রাজধানীর উপকণ্ঠ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে তোলা হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। জিটুজি ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের সহযোগিতায় ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় প্রাথমিক কাজে ব্যয় হচ্ছে ৪৫০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষের পথে।
জমি অধিগ্রহণের টাকা পেয়ে বদলে গেছে এই দুই মৌজা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জীবন যাত্রা। বাড়ি ঘর রাস্তা ঘাটে এসেছে পরিবর্তন। কেউ কেউ আবার অধিগ্রহণের টাকা পেয়ে কিনেছেন নতুন গাড়ি। নতুন নতুন মডেলের মোটরসাইকেলে পুরো এলাকা সয়লাব। কারো আবার একের অধিক মোটরসাইকেলও রয়েছে। রাতারাতি যেন পাল্টে যাচ্ছে এলাকার দৃশ্যপট।
এই ব্যাপারে অধিগ্রহণের টাকা পেয়ে মোঃশাহরিয়ার বলেন, অধিগ্রহণের টাকা পেয়ে আমি অন্যত্র জমি কিনেছি, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করেছি, নতুন করে বাড়িতে ঘর তৈরি করেছি। এখন আমরা সবদিক থেকে স্বাবলম্বী। সত্যি সব ক্ষেত্রে পাল্টে গেছে আমাদের জীবন যাত্রার মান।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, জাপানি অর্থনৈতিক জোনে আস্তে আস্তে পুরো এলাকা উন্নত হয়ে যাবে। এখানে গার্মেন্টস, ইনফরমেশন টেকনোলজি, টেক্সটাইল, কেমিক্যাল, ফার্মাসিউটিক্যাল, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, সিরামিক, ইলেক্ট্রনিক, পার্টিকেল বোর্ড মিলস, বায়োক্স ফিল্ক্ম ইন্ডাস্ট্রিজ, এমডিএফ মিলসসহ পরিবেশবান্ধব আরও বেশ কিছু শিল্পকারখানা স্থাপিত হবে।
এসব কারখানায় প্রায় ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া আড়াইহাজারবাসীর জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। এর মাধ্যমে সারাবিশ্বে এই জনপদ ভিন্নরূপে পরিচিতি পাবে। সব দিক থেকে পাল্টে যাবে অর্থনৈতিক জোন এলাকা।
