বিশেষ প্রতিবেদক,
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের বিজয় সরকারের পরিবারকে ছয় মাস ধরে টিনের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই পরিবারের বসতঘরের তিন পাশে উচু করে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়ায় ঘরের ভেতরে আলো বাতাস প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা বন্দী জীবন যাপন করছেন।
টিনের বেড়া অপসারণ করে চলাচলের পথ সুগম করে দেওয়ার জন্য রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বিজয় সরকার।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজয় সরকার ২০১৬ সালে মধ্যনগর ইউনিয়নের বৈঠাখালী মৌজার ১নং খতিয়ানের ১০৩/৩১৯ দাগে ০.৫৫ একর ভূমি সরকারি বিধি মোতাবেক ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে সেই ভূমিতে বতসঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন তিন।
ওই বসতঘরের পূর্ব দিকে তার উঠানের পরে স্থানীয় রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রম অবস্থিত। ওই রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক দাবিদার গোপেশ সরকার, মধ্যনগর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদার ও হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজয় সরকারের উঠানের জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিজয় সরকারের বসতঘর ঘেষে পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে উচু করে টিন দিয়ে বেড়া দেয়। গোপেশ সরকার, দেবল কিরণ তালুকদার ও মৃদুল সরকার ছয় মাস আগে এমন অবস্থা করে রেখেছে।
আরও জানা গেছে, গোপেশ সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে বিজয় সরকারের বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেছেন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে এ কাজ হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এদিকে সত্য বিশ্বাস বিজয় সরকারের বসতঘর ঘেষে পশ্চিম দিকে টিনের বেড়া দিয়েছেন। বসতঘরের উত্তরপাশ দিয়ে শুকনো মৌসুমে হাওরের উপর দিয়ে বিজয় সরকার বাজারে যাতায়াত করতে পারলেও এখন হাওরে পানি চলে আসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বসতঘর থেকে টয়লেট দূরে থাকার কারণে সেখানে যেতে গিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। অবরুদ্ধ থাকায় কোমলমতি দুই সন্তান ঘরের বাইরে যেতে না পারায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
ভুক্তভোগী বিজয় সরকার বলেন, ‘গোপেশ সরকার, দেবল কিরণ তালুকদার ও মৃদুল সরকার লোক দিয়ে গত অগ্রহায়ণ মাসের ১০ তারিখে আমার জায়গায় বসতঘরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এবং সত্য বিশ্বাস পশ্চিম দিকে বেড়া দিয়ে আমাকে ঘরবন্দী করেছে। আমি এ থেকে পরিত্রাণ চাই।’
ধর্মপাশা উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘এ ঘটনার সত্যতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি এবং বিষয়টি জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি।’
অভিযুক্ত গোপেশ সরকার বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের লোকজন বেড়া দিয়েছে। তবে কে বা কারা দিয়েছে তা জানিনা। বিজয়ের বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।’
টিনের বেড়া দেওয়ার ব্যাপারে তিনি জড়িত কি না তা স্পষ্ট না করে অভিযুক্ত দেবল কিরণ তালুকদার বলেন, ‘আমি আশ্রমের সদস্য, কমিটির কেউ না। আশ্রমের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুই জানিনা।’
বিদ্যুৎ কান্তি সরকার বলেন, ‘আমি অন্য দশজনের মতো সালিশে উপস্থিত ছিলাম। এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই আমি জড়িত না। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই পরিবারটিকে অবরোধমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আমার প্রভাব খাটিয়ে কেউ এমনটি করার কথা নয়। মামাতো ভাই সুমন জানিয়েছে তারা তাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মধ্যনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
