ওমর ফারুক শামীম, ইউরোপ প্রতিনিধি-

একজন অভিবাসী যদি সঠিক প্রক্রিয়ায় কোন অবৈধ পন্থা অবলম্বন না করে পর্তুগালে তার স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেন তাহলে তেমন কোন টাকা পয়সা খরচ ও দালালের প্রতারণার শিকার না হয়ে পেতে পারে তার স্থায়ী বসবাসের অনুমতি। স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য একজন অভিবাসীকে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে,
১, একজন অভিবাসী যেই দেশ থেকে যে উপায়ে পর্তুগালে আসেন (যেমন বাস ট্রেন বিমান) তার টিকেট সংরক্ষণ করতে হবে।
কেউ যদি অন্য অবৈধ উপায়ে টিকেট ব্যাতিত আসে তাতেও কোন সমস্যা নেই।
২, পর্তুগাল আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে লিগ্যাল এন্ট্রি করতে হবে। (লিগেল এন্ট্রি হচ্ছে পর্তুগালে আসার পর আপনি যে হোটেলে উঠেছেন তার প্রমাণ)
৩. অভিবাসী যদি বাংলাদেশী হয় তাকে ৭২ ঘন্টার ভিতরে পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস তার পাসপোর্টে সিল দিয়ে সত্যায়িত করে দিবে তার পর্তুগাল আসার তারিখ।
৪, অভিবাসীকে তার ব্যক্তিগত নাম্বার জন্য আবেদন করতে হবে পর্তুগালে যেটাকে ফিন্যান্স বা ফিসকাল বা নিফ( NIF) নাম্বার বলে। এই ক্ষেত্রে একজন অভিবাসীর স্থানীয় একজন পর্তুগীজের সহায়তা লাগবে।
৫, ফিন্যান্স নাম্বার হওয়ার পর তাকে আবেদন করতে হবে ট্যাক্স নাম্বারের জন্য যেটাকে পর্তুগালে সোশ্যাল নাম্বার (NISS) বলে।
৬, ফিন্যান্স (NIF) এবং সোশ্যাল নাম্বার (NISS) হওয়ার পর একজন অভিবাসীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে বের করতে হবে। যে কোম্পানিতে কাজ করবে সে কোম্পানি থেকে তাকে কাজের কন্ট্রাক্ট পেপার নিয়ে কাজ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে কোন কোন কোম্পানি প্রমিস কন্ট্রাকও দিতে পারে।
৭, আপনি যে বাসায় উঠেছেন ঐ এরিয়ার জুনতা অফিসে গিয়ে আপনাকে জুনতা করতে হবে। জুনতা হচ্ছে আপনার বাসস্থানের প্রমাণ।
৮, নিজের দেশের ক্রিমিনাল রেকর্ড সার্টিফিকেট (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স)।
৯. অভিবাসী যদি নিজের দেশ ও পর্তুগাল ব্যতীত অন্য কোন দেশে এক বছরের বেশি অবস্থান করে সেই দেশের ক্রিমিনাল রেকর্ড সার্টিফিকেট (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স)।
উপরের সকল ডকুমেন্টস যখন একজন অভিবাসীর তৈরি হয়ে যাবে তখন সে নিজে কিংবা উকিলের সহায়তা নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদনের উপযুক্ত হবেন। যেহেতু পর্তুগালের ভাষা পর্তুগিজ তাই আবেদনের সকল প্রক্রিয়া পর্তুগিজ ভাষাতেই সম্পন্ন করতে হয়। ভাষার কারণে অনেকেই জটিলতার মুখোমুখি হন। সেই ক্ষেত্রে একজন উকিলের সহায়তা নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
পর্তুগালের ইমিগ্রেশন অথোরিটি (অভিবাসন কর্তৃপক্ষ) কে সেফ-SEF (Serviço de Estrangeiros e Fronteiras) বলে।
একজন অভিবাসী যখন উপরের সকল ডকুমেন্টস এর মাধ্যমে সেফ-SEF এ আবেদন করেন তখন তার ইমেইলে একটি কনফারমেশন ইমেইল এর মাধ্যমে জানানো হয় যে তার স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে পর্তুগালে বাংলাদেশিসহ সকল অভিবাসীরা সেফ এন্ট্রি (SEF Entry) বলে থাকে। সেফ এন্ট্রি করার পর একজন অভিবাসীকে ৬ মাস থেকে ২৪ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ের ভিতর সেফ-SEF ঐ অভিবাসীকে আরেকটি ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিবে তার সাক্ষাৎকার ও বায়োমেট্রিকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য। তখন ঐ অভিবাসী তার সময় অনুসারে পছন্দের সেফ-SEF এ সাক্ষাৎকার ও বায়োমেট্রিকের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন।
সেফ এন্ট্রি করার পর একজন অভিবাসীর জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল পর্তুগালের মেডিকেল নাম্বার যেটা কে SNS বা Número de utente বলে।
পর্তুগালের মেডিকেল নাম্বার (SNS) এর জন্য ই-মেইলেই আবেদন করা যায়। আপনি যেই এরিয়াতে বসবাস করেন ঐ এরিয়ার হসপিটাল (Centro de Saúde) এর ই-মেইলে ই-মেইল করে SNS এর নাম্বারের জন্য আবেদন করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা মেডিকেল নাম্বারের জন্য আবেদন করবেন তার একটি নির্দেশনা Centro de Saúde এর ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। ইমেইলের সাবজেক্ট (Subject) – Inscrição de Novo Utente লিখতে হবে।
যে যে তথ্য গুলো নির্ভুল ভাবে দিতে হবে,
১, সম্পুর্ণ নাম (Complete Name)
২, জন্ম তারিখ (Date of Birth)
৩, মোবাইল নাম্বার (Mobile number)
৪, জুনতা-বাসস্থানের প্রমাণ (Proof of Accommodation)
নিচের ডকুমেন্টস গুলো ই-মেইলে সংযুক্ত করতে হবে,
১, আপনার পাসপোর্ট অথবা রেসিডেন্স পার্মিটের কপি
২, আপনার ব্যক্তিগত নাম্বারের কপি (ফিসকাল/NIF)
৩, আপনার সোস্যাল সিকিউরিটি নাম্বার (NISS)
৪, সেফ এন্ট্রি এর প্রমাণ (Manifestação de Interesse)
ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ৩য় পর্বে থাকবে অজানা আরো অনেক তথ্য।
