নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ
কেউ বলে পূর্বাচল। কেউ বলে নিউ ঢাকা। আবার কেউবা বলে ঢাকার পাশেই আধুনিক ঢাকা। অনেক আশা আর স্বপ্ন সাধনার পূর্বাচল আর কবে বসবাসযোগ্য হবে-এমন প্রশ্ন আজ স্থানীয় আদিবাসীসহ প্লট কেনা মানুষের। অনেকে আবার ক্ষোভের সাথে বলেন, পূর্বাচলে কি আদৌ তাদের জায়গা হবে। ঢাকার অতি সন্নিকটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধুনিক ঢাকা গড়ার কাজ শুরু হয় দুই যুগ আগে। এখনও বাসযোগ্য হলোনা আধুনিক ঢাকার পূর্বাচল। আর কবে হবে তা নিয়ে ভোক্তভুগিরা সন্ধিহান। আগামী জুনের মধ্যেই রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নতুন শহর প‚র্বাচল বসবাসের উপযোগী হবেÑ সরকারের তরফ থেকে এমনটা বলা হলেও গ্রাহকদের বাসযোগ্য প‚র্বাচল উপহার দিতে এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। প্রকল্পটিতে ২৫ হাজারের বেশি প্লট থাকলেও এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে ১৫ হাজারের মতো প্লট। কিন্তু প্রশাসনিক বিষয়সহ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ বিভিন্ন সেবার বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। ফলে কবে প‚র্বাচল বাসযোগ্য হবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে প‚র্বাচলের কাজ শুরু হয়। জমি অধিগ্রহণবিষয়ক জটিলতা হওয়ায় হাজার হাজার মামলার সুরাহা করে কাজ শুরু করতেই অনেক সময় লেগে যায়। বর্তমানে কাজ চলছে। প্লট রেডি হলেই গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্লট বুঝে পেলেই বাড়ি করা যাচ্ছে না। কারণ এখানে তেমন কোনো নাগরিক পরিষেবাই নেই। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা অর্থাৎ ইউটিলিটি সার্ভিস নিয়ে এখনো তেমন অগ্রগতি নেই। স্যুয়ারেজ সিস্টেম ডেভেলপ করতে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কথা ছিল রাজউকের। কিন্তু ঢাকা ওয়াসা প‚র্বাচলে রাজউকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে অপারগতা জানিয়েছে। ৬ হাজার ২২৭ একরের প‚র্বাচলে বিগত বছরের মধ্যে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত ও চলতি বছরের জুন নাগাদ প্রকল্পের সব কাজ শেষ করার কথা রয়েছে রাজউকের। এমন সময় আগেও কয়েকবার বেঁধে দিয়েছিল সংস্থাটি। প্রশাসনিক বিষয়গুলো অমীমাংসিত : প‚র্বাচল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এর দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়েও রয়েছে জটিলতা। গৃহায়ন ও গণপ‚র্ত মন্ত্রণালয় স‚ত্র জানায়, এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর। প‚র্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকাটির সীমানা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মধ্যে পড়েছে। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এটি দেখভালের কর্তৃপক্ষ কে হবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ বিষয়ে প‚র্বাচল প্রকল্পের পরিচালক উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, এ শহরকে পরিচালনার জন্য একটি লোকাল বডি প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।
চার থানা ও দুই পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে নেই অগ্রগতি : প‚র্বাচলে প্রায় ১৫ হাজার প্লট হস্তান্তর হলেও চুরি-ডাকাতির ভয়ে এখনো গড়ে উঠছে না জনবসতি। চারটি থানা ও দুটি পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ৩০ একর জমি বরাদ্দ হলেও দীর্ঘ সময় লাগার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ে থানা না হলে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবছে রাজউক। তবে সেই বিকল্প ব্যবস্থাটা কী হবে, তা ঠিক হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগুলো করতে লম্বা একটা প্রসিডিউর আছে। প‚র্বাচলে এখনো কিন্তু সেই রকমভাবে বসতি গড়ে ওঠেনি, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতে চুরি-ডাকাতি হয়। এমনকি দিনের বেলায়ও হয়। রাজউকের প্রকল্প পরিচালক উজ্জ্বল মল্লিক এ সম্পর্কে বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে যাতে থানা স্থাপনের কাজটা করা যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে মানুষ নিশ্চিত হলে তখন বাড়িঘর করবে। চুরি-ডাকাতি ও মাদক প‚র্বাচলের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা। রাস্তাঘাট থেকে গবাদিপশু তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসীর দাবি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ থানাগুলো দ্রæত স্থাপন করা হোক।
