এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে টেবিলে টেবিলে অনিয়ম আর দূর্নীতি। জাতীর এই ক্রান্তিকালে চিকিৎসা সেবা লকডাউন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসোলেশনে থেকে দুনীর্তি, অনিয়ম আর গোপন টেন্ডার চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের পথ্য, ধূপি ও ষ্টেশনারী ঠিকাদারী কাজ গোপনে টেন্ডার কার্য্য সম্পন্ন করার অপকৌশল ফাঁস হয়েছে।
বঞ্চিত ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়েন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: জাকিরুল ইসলাম লেলিন।
গত ২৮ মে দরপত্র দাখিলের শেষ দিনে অন্যান্য ঠিকাদাররা খবর পেয়ে তত্বাবধায়কের কার্য্যালয় ঘেরাও করে। এসময় ঠিকাদাররা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চায় কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপন প্রকাশ করা হয়েছে? হিসার রক্ষক আশরাফ মজিদ এসব বলতে পারবেন।
হিসার রক্ষক আশরাফ মজিদ জানান, বিজ্ঞাপনটি দৈনিক এশিয়ার বানী ও দৈনিক মুসলিম নিউজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তবে তা অদ্যাবদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌচ্ছায়নি। পরে দেখাতে পারব।
অভিযোগে জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল জেলাবাসীর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। কাংঙ্খিত চিকিৎসা সেবা তো দূরের কথা উল্টো হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সীমাহীন দূর্নীতির কারনে বিনামূল্যের ওষুধ অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হয়।
হাসপাতালে কম্বল, মশারী, চাদর ও বালিশের কভার দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেগুলো পায়না সব রোগী। অসাধু উপায়ে হাসপাতালের ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজেই ঠিকাদারী করেন হিসাব রক্ষক আশরাফ মজিদ। হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে দূর্নীতি করে লাখ লাখ হাতিয়ে নিচ্ছেন হাসপাতালের একটি সিন্ডিকেট।
হিসাব রক্ষক আশরাফ মজিদের বিরোদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের পাহাড়। কুড়িগ্রাম শহরের বিশাল বাড়ি ও সম্পদ মালিক বনে গেছেন। হাসপাতালের ওষুধ অন্যত্র বিক্রি। টেন্ডার বাণিজ্য।
অভিযোগে আরো জানা য়ায়, করোনা সংকটের আগে হাসপাতালে আউট সোর্সিং এর ঠিকাদারী কাজে দরপত্র দাখিল সম্পর্ন হয়। করোনার কারনে দীর্ঘদিন সিদ্ধান্ত না দিলেও তড়িঘরি করে গত সপ্তাহে চুড়ান্ত ঠিকাদার নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেরন করা হয়। সেখানেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টেন্ডার শর্তবালীর মধ্যে গুরুত্ত্বপূর্ণ ব্যাংক সলভেন্সী, সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতার সনদ ও কেন্দ্রীয় সিকিউরিটি সার্ভিসের সদস্য হওয়া বাধত্যমূলক। চূড়ান্ড ঠিকাদার হিসেবে স্বরলিপী সিকিউরিটি সার্ভিসিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করে জোড়ালো তদবির করছেন।
অন্যদিকে দরপত্রের সকল শর্তবলী পূরণ করে আল ফারাহ সিকিউরিটি সার্ভিস টেন্ডারে অংশ গ্রহন করলেও তাকে দ্বিতীয় দরদাতা হিসেবে রাখা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আল ফারাহ সিকিউরিটি সির্ভিস লিমিডেটের স্থানীয় প্রতিনিধি মো: নূরুজামান অভিযোগ করেন, স্বরলিপী সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড এর অভিজ্ঞতার সনদ, ব্যাংক সলভেন্সী, কেন্দ্রীয় সিকিউরিটি সার্ভিসের সদস্যের ভূয়া সনদ জমা দিয়েছে। স্বরলিপীর দেয়া সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করার অনুরোধ করেন।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেচ্ছাচারিতা ও দূর্নীতির উদ্বেগজনক। যা সরকারের দূর্নীতি বিরোধী অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এসব অনিয়মের ব্যাপারে জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: জাকিরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারদের সাথে একটু সমস্যা হয়েছিল সেটা সমাধান হয়েছে। অনিয়ম দূনির্তীর কথা বললেই তিনি বলেন, সিষ্টেমটি দীর্ঘদিনের যা আমি রাতারাতি ঠিক করতে পারবো না। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
