দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

বিধবার শেষ সম্বল দখলে নিতে মরিয়া আব্দুল হাই

0 104

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নরসিংদী প্রতিনিধি
মৃত উকিল উদ্দিনের স্ত্রী নাছিমা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে কন্যা সন্তানদের নিয়ে থাকেন স্বামীর ভিটায়। বেশ কয়েক বছর হয়েছে তিনি বিধবা হয়েছেন।যে বাড়িতে একদিন লাল শাড়ি পড়ে বধূবেশে এসেছেন, সে বাড়িতে নাছিমা বসবাস করেন সাদাকাপড় পড়ে। অভাবের সংসার। নাছিমা স্বামীকে হারিয়ে রেখে যাওয়া চার কন্যা সন্তানকে বুকি আগলে ধরে বসবাস করে আসছেন স্বামীর ভিটায়। স্বামী হারোনোর শোক নিয়ে কোন রকম চলে যাচ্ছে সময়।

বেশ কিছুদিন ধরে বিধবা নাছিমার স্বামীর ভিটা দখল নিতে স্থানীয় ভূমি খেকু আব্দুল হাই পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা গেছে, দখলের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজন বিচার শালিসের করে থামাতে চেষ্টাও করেছেন বেশ কয়েকবার। বিচার শালিস শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরেই ফের চেষ্টা চালায় বিধবা নাছিমার শেষ সম্বল স্বামীর ভিটা দখলে নিতে অভিযুক্ত আব্দুল হাই। সূত্র আরও জানায়, নাছিমার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় তার ও চার কন্যাদের উপর বিভিন্ন সময় অত্যাচারও চালায় আব্দুল হাইসহ তার লালিত লোকজন। আব্দুল হাইকে স্থানীয় লোকজন ভয় পায়।

এ ভয় পাওয়ার কারণ, তার প্রভাব ও প্রতিপত্তি। এছাড়াও বিভিন্ন মহলের প্রভাব দেখান। স্থানীয় লোকজনের কাছে অতংকের নাম আব্দুল হাই। নাম প্রকাশ না করার কথা বলে একাধিক লোকজন বলেন, আব্দুল হাই কয়েক বছর আগেও এত প্রভাবশালী ছিলনা। তিনি এলাকায় সাধারণ মানুষের মতো চলাচল ও ব্যবহার করতেন। এখন দৃশ্যটা উল্টো। এলাকায় যা চান তাই করতে পারেন। এলাকায় অনেক জমি কিনেছেন। যে জমির দিকে তাকান তা যে কোন উপায় তার করে নেন। দিতে না চাইলে তার ও তার পরিবারের লোকজনের উপর নেমে আসে অত্যাচার। অনেকেই সইতে না পেরে জমি দিতে বাধ্য হোন।

জানা গেছে, বিধবার জমি দখলে নেয়ার পায়তার করছেন আব্দুল হাই। এ ঘটনার সংবাদ নরসিংদী জেলার একাধিক সংবাদ কমীরা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান। সংবাদকমীরা সরোজমিনে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে আব্দুল হাইসহ অন্তত ৫৫জনের মতো লোক ঘটনাস্থলে হাজির হোন।আব্দুল হাইসহ তার পালিত লোকজন সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ কাজে বাধা দেন। ক্যামেরাসহ পরিচয় পত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনার সংবাদ মাধবদী থানার ওসি এ ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবেন বলেন।

সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন ভূইয়ম গ্রামের ভূমি খেকু আব্দুল হাই দীর্ঘদিন যাবত তার প্রতিবেশী মৃত উকিল উদ্দীনের বিধবা স্ত্রী নাছিমা বেগমের বসতবাড়ি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নাছিমা প্রায় ত্রিশ বছর ধরে এ বাড়িতে বসবাস করছেন বলে দাবি করেন।

- Advertisement -

নাম প্রকাশ না করার কথা বলে কয়েকজন জানান, ওই বিধবার কোন ছেলে সন্তান ও নিকটাত্মীয় না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রতিবেশী আব্দুল হাইসহ তার ভাই- বোন ও আত্মীয়স্বজনের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে। নাছিমা তার চার মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বিধবার মেয়ে ইতি আকতার জানান, আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বাড়ি নেয়ার জন্য অত্যাচার চালায় আব্দুল হাই।আমাদের কোন ভাই নাই। এলাকার লোকজন নিয়ে বাড়ি দখল নিতে চায়।

বিধবা নাছিমা বেগম জানান, আব্দুল হাইসহ তার লোকজনের ও তার পরিবারের সদস্যদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেয়ে স্বামীয় ভিটায় থাকতে চাই। স্বামীর রেখে যাওয়া বসত বাড়ি রক্ষা করতে প্রশানের সহযোগিতা চাই। গতকাল ১৮ অক্টোবর সকাল ১০ টায় সীমানা গ্র্যাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধান শেষে প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করি। আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে দেয়াল ভেঙে দেয়।এসময় শারীরিক নির্যাতন করে আমাকে ও মেয়েদের। বাড়ির দখল না ছাড়লে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে ১৮ অক্টোবর দুপুরে বিধবার মেয়ে ইতি আক্তার (১৯) বাদী হয়ে ছয় জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে নামীয় আসামীরা হলো, ভূইয়ম গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে আব্দুল হাই (৫৫), আলম মিয়া (৪০), কাশেম মিয়া (৩৫), ময়না মিয়া(৩২), মেয়ে হোসনা বেগম (৪২) ও আলেক মিয়ার স্ত্রী মোসাম্মৎ সনি আক্তার।

জানা গেছে, আব্দুল হাইয়ের বিরোদ্ধে ২০১১ সনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয় একি ঘটনা নিয়ে।নাছিমা জানান, এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্র্যাম্য সালিশের আয়োজন করেন। আব্দুল হাই ভবিষ্যতেএ ধরনের কোন কাজ করবেনা মর্মে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়।
এ ব্যাপারে ভূইয়ম গ্রামের রশিদ মেম্বারের সহিত যোগাযোগ করলে তিনি আব্দুল হাই ও তার পরিবারের অবৈধ অর্থ ও পেশী শক্তির কাছে তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

মাধবদী থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More