গাজীপুর প্রতিনিধি
মা’ প্রতিটা সন্তানের সুখে হাঁসেন। আর দুঃখে কাঁদেন। সন্তান কিছু চাইলে মা’ ব্যকুল হয়ে পড়েন তাকে দিতে। সন্তানের ইচ্ছা পুরন করাই মা’য়ের সুখ। এমন সুখ একজন মা’ সবসময় পেতে চান। কিছু পরিবারের বেলায় তা হয়ত একটু ভিন্ন। মা’ সন্তানের রসমালাই খাওয়ার ইচ্ছা পুরন করতে সময় নিয়েছিলেন। কারন, মা’ চাকুরী করেন। মা’ একাই সংসারের আয় করেন। গাজীপুর জেলার হতদরিদ্র একজন গার্মেন্টসে চাকুরীজীবি হালিমা খাতুন। মা’য়ের কাছে তার সন্তানের চাওয়া ছিল রসমালাই খাওয়ার। সে মায়ের হাতে টাকা নেই রসমালঅই কিনার। বেতন পেয়ে মেয়েকে রসমালাইকিনে দিবে কথা দিয়েছে। মেয়ে রাগ করে না খেয়ে স্কুলে যেত। এমনভাবে দুই দিন। চলে যায়। মায়া আকতারের মা রসমালােই আনতে পারেনী। মায়া আকতার স্থানীয় ধনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছিলো।
মা হালিমা খাতুন কাজ করেন জৈনাবাজার এলাকার একটি গার্মেন্টসে। মায়া শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির মেয়ে। মায়ার ভাগ্যমন্দ। সে জন্মের পর বাবা বলে ডাকতে পারে নী। মায়া যখন কথা বলতে শিখেছে এর আগেই মায়ার মা’য়ের সাথে তার বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
এর পর থেকে মা’য়ের সাথে মায়া আকতার (১০) নানার বাড়ীতে থাকত । মা’ চাকুরী করেন। জৈনাবাজার এলাকার একটি গার্মেন্টসে। ছোট মায়ার আবদার ছিলো রসমালাই খাওয়ার। হাতে টাকা না থাকায় সামনের বেতন পেয়ে রসমালাই কিনে দিবে বলে জানিয়েছিল মা। এ কথা শোনার পরে মায়া অভিমান করে মা’য়ের সাথে। তার মা’য়ের সাথে অভিমানী করে গত দুইদিন যাবত খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলো মায়া।
আজ (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘরের পান্তা ভাত খেয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে মা চলে যায় মায়ের কাজে । সে রসমালাই খাওয়ার ইচ্ছেই কাল হলো গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া মায়ার। রসমালাই খেতে না পেয়ে আম গাছে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানায় পুলিশ। শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মায়া শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির মেয়ে। সে ধনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছিলো। জানা গেছে, হাবিবুর রহমান হবির সাথে নিহ মায়া আকতারের মা’য়ের বিবাহ হয়।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মেনহাজ উদ্দিন জানান, স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর নিহত মায়ার মা হালিমা খাতুন মায়াকে নিয়ে বাপের ভিটায় শৈলাট মেডিকেল মোড় এলাকায় থেকে জৈনা এলাকার একটি কারখানায় চাকরি করতো। তবে এখানেও তিনি নতুন সংসার শুরু করেন।
নিহত মায়ার নানার বাড়ির লোকজন জানান, গত কয়েকদিন ধরেই মায়া রসমালাই খাবে বলে মায়ের কাছে বায়না ধরে। এ নিয়ে মায়ের সাথে অভিমান করে শিশু মায়া গত দুদিন ধরে কিছু খেতে চায়নি বলে জানা যায়। শনিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি আম গাছে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মায়া।
পরে স্থানীয়রা তার লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল হতে পুলিশ নিহত মায়ার লাশ উদ্ধার করেন। তবে পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় বাবা-মাকে হাজির করে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত হোসেন জানান, ঘটনাটি সত্য এবং নিহত মায়ার বাবা-মার কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
