রূপগঞ্জে সরকারী দফতরের দুর্নীতি জনপ্রতিনিধিদের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সেই টাকাত আমি আমার জন্য নেই না। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরে যে টাকা নেয়া হয় তা অনেকেই নেন। টিআর-কাবিটার পারসেন্টেসের টাকা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিতে হয়। আমিত সবার নাম বলতে পারব না। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের দেওয়া এমন বক্তব্যের পরে নড়ে চড়ে বসেছেন উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা। এমন বক্তব্যের সঠিক তদন্তর দাবিও করেন সংবাদ সম্মেলনে।
নারায়ণগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলো রূপগঞ্জ। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম উপজেলায় বদলী হয়ে এসেছেন কয়েক মাস আগে। অনেক জনপ্রতিনিধিরা তার এ বক্তব্যকে মেনে নিতে পারছেন না। তাই টিআর-কাবিটার পারসেন্টেসের টাকা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিতে তদন্তপূর্বক বিচার চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
আজ (২০ জুন) শনিবার দুপুরে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন মুড়াপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য লাভলী বেগম। এসময় উপজেলার বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামী লীগের নেতাসহ যুব মহিলা লীগের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে, গত ১৮ জুন উপজেলা চত্বরে জনপ্রতিনিধিরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের অপসারণ দাবী করে। এরপর তাকে তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রতিনিধিরা বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাসবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে টিআর-কাবিটা প্রকল্প নিয়ে দুর্ণীতি করে আসছে। জনপ্রতিনিধি ও বরাদ্দপ্রাপ্ত লোকজনের কাছ থেকে টেন পারসেন্টেস করে উৎকোচ হাতিয়ে নিচ্ছে। কাবিটা ও টিয়ার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা ইউপি সদস্য লাভলী মানিকের নামে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসলেও তিনি পান ৪০ হাজার টাকা।
আরেক ইউপি সদস্য রেহানা আক্তারকে ৫০ হাজার টাকার স্থলে তিনি পান ৪৩ হাজার টাকা। ভোলাব ইউনিয়নের যুব মহিলা লীগের সভাপতি ভোলাব শিল্পী আক্তার ৫০ হাজার টাকার মাঝে ৪২ হাজার ৫’শ টাকা পান ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দের মাঝে ৩৪ হাজার টাকা পেয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগের অন্ত নেই বলে জানান ভুক্তভোগীরা। আর এ অনিয়ম ও দুর্ণীতির ব্যাপারে প্রকল্প কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামকে জিহ্ঝেস করা হলে তিনি উপজেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার কথা বলেন। তবে ওই উধ্বর্তন কর্মকর্তা কে তা বলতে অপরাগতা স্বীকার করেন। অনিয়ম ও দুর্ণীতির সঙ্গে জড়িত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিভাগীয় কমিশনার স্যার যেনো খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেন সম্মেলনে সেই দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিয়মের মধ্যেই কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমার নিজেরও জানা নেই। তবে অনেকেই আমার ব্যাপারে মিথ্যা কথাও বলছেন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যাসন শাহরিয়ার পান্না সোহেল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদেীসী আলম নীলা, জেলা পরিষদের সদস্য শীলা রানী পাল, মুড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, আওয়ামীলীগ নেতা এমায়েত হোসেন, কাঞ্চন পৌর আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসূল কলি, আব্দুল মান্নান, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফেরদৌসীর আক্তার, সাধার সম্পাদক সেলিনা আক্তার রিতা, সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের ভিপি সাইফুল ইসলাম তুহিন, ইউপি সদস্য রেহেনা আক্তারসহ আরো অনেকে।
