দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে জবাই করেছে দুলাভাই! ঘাতক আব্বাস আটক

0 79

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ বউবাজার এলাকায় লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইন্ডিয়ার জিবাংলা-৮ এর সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোলের আদলে বড় বোনের স্বামী তার শ্যালিকা ও দুই মেয়েকে জবাই করেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। এসময় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন আরেক কিশোরীকে(আব্বাসের মেয়ে) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রোমান। আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সিআই খোলা এলাকায় ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক আব্বাস পলাতক থাকলেও বিকেল তিনটার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউজ এলাকা থেকে তাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।


সাজ্জাদ রোমান বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে বড় বোনের স্বামী তার শ্যালিকা নাজনিন বেগম(২৪), মেয়ে নুসরাত (৬), খাদিজা (২) ও ঘাতক আব্বাসের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সুমাইয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাত করে। এতে সুমাইয়া মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও বাকী তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ এসে আলামত সংগ্রহ করার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে পুলিশের ঐ কর্মকর্তা জানান।

- Advertisement -

দুপুর পৌনে ২ টায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হারুন-অর-রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, আব্বাসের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক কলহ হতো প্রায় সময়। বুধবার বিকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্বাস তার স্ত্রীকে বেধড়ক পেটায়। ঐ দিনই বিকালে তার স্ত্রী তার ছোট বোন নাজনিনের বাসায় চলে আসে। খবর পেয়ে বড় বোনের স্বামী আব্বাস বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বাড়িতে এসে শ্যালিকা নাজনিন ও তার দুই মেয়েকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এতে ঘটনাস্থলে মা ও তার দুই মেয়েসহ তিনজন মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্বাসের মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি বরিশালে। নিহত নাজনীনের স্বামী সুমন মিয়া। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় নাজনিনের বড় বোন গার্মেন্টে ছিলো। আর নাজনিনের স্বামী সুমন সানারপাড় এলাকায় জোনাকি পেট্রোল পাম্পে ছিলো। আব্বাসকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কেন এ লোমহর্ষক হত্যাকান্ড তা-নিয়ে চলছে তদন্ত।


প্রাণে বেঁচে যাওয়া সুমাইয়া হাসপাতালে পুলিশকে বলে, আমার বাবা একজন মাদকাসক্ত। প্রতিদিন আমার মাকে নির্যাতন করতো। বুধবার বিকালেও বাবা আমার মাকে মারধর করে। পরে রাতেই আমাকে নিয়ে মা খালামনির বাসায় চলে আসে। রাতে আমরা ওখানেই ঘুমাই।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) আজিজুল হক জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সিআই খোলা এলাকার আনোয়ার মিয়ার মালিকাধীন ৬ তলা বভনে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা আসছেন। দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More