নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর মনোহরদী থানায় বিচার চাইতে এসে পুলিশের হাতে নির্মম নিযার্তনের শিকার হয়েছেন বিল্লাল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মনোহরদী থানায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় আজ শনিবার নরসিংদী পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে।
লিখিত অভিযোগে বিল্লাল হোসেন জানান, আমার স্ত্রীর বড় ভাই কাউসার মিয়ার সাথে তার প্রতিবেশী মজনু ও হোসেন মিয়ার জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। দীর্ঘদিনের এ বিরোধ মিমাংসার জন্য পরামর্শ চাইতে গত বৃহস্পতিবার ১১টায় মনোহরদী থানার এসআই সোহেল রানার কাছে যায়। ওই সময় এস আই সোহেল রানা কাগজপত্র দেখে জমি দখলে নিয়ে দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন।
ঘটনাটি জমির মালিক কাউসার মিয়াকে জানালে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে টাকার অঙ্ক কমিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান।
পরে আবার এস আই সোহেল রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে মীর সোহেল রানা রাজি না হওয়ায় তারা বাড়ি ফিরে যায়। পরে ওই দিন রাতেই পুনরায় মনোহরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালামের কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বললে তিনি, শুক্রবার সকালে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন।
ওসি তদন্তের কথা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিল্লাল হোসেন, কাউসার মিয়া, সবুজ মিয়া, প্রতিবেশী মোস্তফা হোসেনকেসহ সকল কাগজপত্র নিয়ে থানায় গেলে ওসি তদন্ত কাগজপত্র যাচাই করে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এ সময় থানার অপারেটর জিয়াউর রহমানের কাছে গিয়ে অভিযোগ লেখার সময় এসআই সোহেল রানা থানায় প্রবেশ করে কৃষকদের অভিযোগ লেখাতে দেখে উত্তেজিত হয়ে যান। ওসি তদন্তের কাছে অভিযোগ দায়ের করার কথা শুনে তিনি আরো ক্ষেপে গিয়ে তার দুই হাত দিয়ে বিল্লাল হোসেনকে দুই গালে চর-থাপ্পড় মারতে থাকেন।
এ সময় বিল্লালের আত্মীয় কাউসার মারতে নিষেধ করায় তাকেও একই কায়দায় মারতে থাকেন এবং তাদের সাথে থাকা সবুজকেও মারতে আসের এস আই মীল সোহেল রানা। এ সময় সবুজ দৌড়ে পালানোর সময় তাকে পেছন দিক থেকে ধাওয়া করেন এসআই সোহেল রানা। এ সময় তাদেরকে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকি দেন এস আই সোহেল রানা।
এসআই সোহেল রানার এমন লঙ্কাকাণ্ডে থানায় উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও হতবাক হয়ে যান। পরে বিচার প্রার্থীদের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে ওসি তদন্ত আবুল কালাম দৌড়ে আসেন এবং সোহেল রানার কাছে ভুক্তভোগীদের মারার কারন জানতে চাইলে সোহেল রানা কোনো উত্তর না দিয়েই থানা থেকে বের হয়ে যান।
এ বিষয়ে এসআই মীর সোহেল রানা মুঠোফোনে জানান, ভুক্তভোগীদের সাথে সামান্য একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে।
এঘটনায় পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম জানান,এসআই সোহেল রানা তাদের সাথে রাগারাগি করতে দেখে ধমক দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি সকালে শুনেছি। এটি মিমাংশার চেস্টা চলছে।
