দুদকের নখের আচঁড় সইতে পারবেননা —– দুদক কমিশনার
জাগো বাংলাদেশ ডেস্ক
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন অনেক শক্তিশালী। দুদকের নখের আচঁড় সইতে পারবেননা, যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত। ২ বছরে ৩৩লাখ অভিযোগ দুদকে এসেছে। দুর্নীতি আমাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। নয়তো আরো আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে চলে যেত বলে মন্তব্য করেছেন, দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মোজাম্মেল হক খান।
বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুদকের গনশুনানী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, দুদক একটি শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। যারা দূর্নীতি করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। দূর্নীতি করে স¤্রাটরাও অনেক সম্পদের মালিক হয়েছিলেন তারাও পার পাননি। স¤্রাটের সহযোগীরাও পার পাবেনা। অপকর্মকারীদের তালিকা আরো দীর্ঘ হবে। দূর্নীতিবাজ দুষ্টু লোকজন সমাজে ভাল মানুষের লেবাস পড়ে থাকে।
তিনি আরো বলেন, দুষ্টু লোকেরা দশদিন চুরি করে একদিন ধরা পড়বেই। এখন কেউ দূর্নীতি করে রেহাই পাবেনা। দূর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনিক দপ্তর থেকে শুরু করে সরকারী অধিনস্থ দপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমান হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। সরকারী কোন দপ্তর থেকে সেবা গ্রহনকারীরা হয়রানির স্বীকার হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দুষ্টু লোকের সংখ্যা সমাজে খুব কম। তবুও দুষ্টু লোকেরা রাজত্ব করছে তাদেরকে খুজে বের করতে দুদক কাজ করছে। চুরি, বদমায়েশি, জবর দখল করে সম্পদ গড়ে লাভ কি ? একদিন সব রেখে চলে যেতে হবে। যে চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই চেতনা আমাদের ধারন করতে হবে।
দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খাঁন বলেন, আমরা গনশুনানীর মাধ্যমে মানুষের দূঃখ কষ্ট লাঘব করতে কাজ করছি। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দূর্নীতি রূখতে হবে। আমাদের দেশের প্রতিটি জেলায় দূর্নীতি দমন কমিশন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক সেনা প্রধান ও ৩ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অবঃ) কেএম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন স্বরণ করে বলেন, পাকিস্তানিরা মনে করেছিলেন বাঙ্গালীদের সাহস কম। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষনেই প্রমান হয়েছিল বাঙ্গালীদের সাহস ও মনোবল কত বেশি ছিল মার্তভূমির প্রতি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) জসিম উদ্দিন বলেন, রাতের বেলায় বড় বড় ড্রেজার দিয়ে নিরীহ কৃষকের জমি ভড়াট করার ঘটনা ঘটছে। কৃষক সকাল বেলা জমিতে গেলে নিজের জমিই চিনতে পারেনা। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষকে মুখ খুলতে হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, সাধারন মানুষের কথা শুনতে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর সব সময় খোলা থাকে। তাদের কথা গুরুত্বের সহিত শুনা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীদের কেউ থানা পুলিশ বা কারো দ্বারা হয়রানী হলে সরাসরি অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরো বলেন,বিগত বিএনপি জামায়াত আমলে দূর্ণীতির দায়ে এ দেশ চ্যাম্পিয়ন হতো। এখন সে অভিযোগ নেই । উপজেলা দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও গ্যাজেটভুক্ত সমাজসেবক মোজাম্মেল হক ভুঁইয়া বলেন, প্রভাবমুক্ত থেকে দূর্ণীতি প্রতিরোধে নির্ভয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে গনশুনানীতে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা দূর্নীতি দমন কমিশনের বিভাগীয় পরিচালক আক্তার হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মমতাজ বেগম, সহকারী কমিশনার (ভুমি) তরিকুল ইসলাম, রূপগঞ্জ উপজেলা দুর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ লায়ন মোজাম্মেল হক ভুইয়াসহ আরো অনেকে।
ঢাকা জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা ভুলতা, মুড়াপাড়া, মঠেরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প বসিয়ে বিভিন্ন দুর্ণীতির বিষয়ে অভিযোগ গ্রহন করেন। গণসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করতেই এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
আজকের এই গণশুনানিতে ১১০টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এসময় অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের মুখোমুখী করা হয়। কয়েকটি অভিযোগ তাৎক্ষনিক সমাধান করা হয়। এছাড়া বাকি অভিযোগ গুলো তদন্ত করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
সমাপনি বক্তব্যে দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মোজাম্মেল হক খাঁন বলেন, অভিযোগকারীদের অনেকগুলো অভিযোগ সুনির্দিষ্ট ছিলনা, তাই অনেকেই ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বেড়িয়ে যায়। কথা দিয়ে গেলাম আজকে যতগুলো অভিযোগ পেয়েছি তার ফলোআপ করবো।
