নিহতের পরিবারের লোকজনের দাবি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিতেই এ হত্যাকান্ড
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মটরপার্সের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে এক কর্মচারী ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হেকমত আলী (৪০) কে হত্যা করেছে বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্ত কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ নিজের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায়।
আজ (২ জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুরে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের পার্শের উপজেলার কোশাব এলাকার একটি মাছের খামারের বন্ধ ড্রাম থেকে হেকমত আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিস লাশ উদ্ধার কাজে সহযোগীতা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত হেকমত আলী উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদি এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে।
হেকমত আলীর ভাতিজা মিজান ও স্ত্রী রোকসানা বেগমসহ পারিবারিক সুত্র জানায়, হেকমত আলী একজন মটরপার্সের ব্যবসায়ী। ভুলতা নুরম্যানশন মার্কেটে হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছিলো রফিকুল ইসলাম সবুজ। রফিকুল ইসলাম সবুজ কেরাব মোল্লা বাড়ী এলাকার ইয়াকুব মোল্লার ছেলে। হেকমত আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক।
প্রায় সময়ই কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির পার্টনার দাবি করতো। এ নিয়ে রফিকুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে হেকমত আলীর দ্বন্ধ ছিলো।
গত ৪ এপ্রিল সকালে রফিকুল ইসলাম সবুজ নিজের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাবার কথা বলে হেকমত আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আর বাড়ি ফিরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্বীয় স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজির পর গত ১৪ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম সবুজ, রফিকুল ইসলাম সবুজের ভাই মাহাফুজুর রহমান, মামুমন মিয়া ও বাবা ইয়াবুব মোল্লাকে আসামীকে করে হেকমত আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ ও গুমের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
পরে রফিকুল ইসলাম সবুজকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি নারায়ণগঞ্জ পিবিআইকে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও আসামীকে নিবির ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি উদঘাটিত হয়। নিহত হেকমত আলীর দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের এসপি এ আর এম আলিফ জানান, কয়েকদিন আগে মামলাটি তদন্ত করার জন্য আমাদের দেয়া হয়। পরে পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও আসামী রফিকুল ইসলাম সবুজকে নিবির ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী রফিকুল ইসলাম সবুজ হত্যাকান্ডের ঘটনা শিকার করেছে এবং এ হত্যাকান্ড একাই ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে। তবে এ হত্যাকান্ডটি একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে পুলিশ ধারনা করছে। ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে এ জন্য তদন্তের মাধ্যমে খুজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
রফিকুল ইসলাম সবুজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এসপি আরো জানান, শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্ধির পর একটি ড্রামে ঢুকিয়ে ড্রামের মুখটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের পার্শের একটি মাছের খামারে ফেলে দেয়া হয়। নিখোজের প্রায় তিন মাস পর লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম ও কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম রফিক।
