
ওমর ফারুক শামীম, ইউরোপ প্রতিনিধি:-
সেফ-SEF এন্ট্রি করার ৬ মাস থেকে ২৪ মাস অপেক্ষা করার পর সেফ-SEF যখন একজন অভিবাসীকে ইমেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার ও বায়োমেট্রিকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তখন ঐ অভিবাসী তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো সেফ-SEF এ সাক্ষাৎকার ও বায়োমেট্রিকের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন।
সাক্ষাৎকারের দিন একজন অভিবাসীকে যে সকল ডকুমেন্ট সাথে করে নিয়ে যেতে হবে,
১, পাসপোর্ট
২, কাজের কন্ট্রাক্ট। আপনি যদি একের অধিক কাজ করে থাকেন সবগুলো কাজের কন্ট্রাক্ট এর মূল কপি।
৩, ফিন্যান্স/ফিসক্যাল/NIF নাম্বারের এর মূল কপি।
৪, স্যোসাল/NISS নাম্বারের মূল কপি।
৫, আপনি সাক্ষাৎকারের তারিখে যে কোম্পানিতে কর্মরত আছেন সেই কোম্পানি থেকে ডিক্লারেশন পেপার যেটাকে পর্তুগালে পাত্রন ডিক্লারেশন বলে।
৬, এসিটি (ACT) পেপার, যেটা আপনি ফিনান্স অফিসে গিয়ে আবেদন করলে সাথে সাথে পেয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে আপনার পাসপোর্ট সাথে নিয়ে যেতে হবে।
৭, জুন্তা ( বাসস্থানের প্রমাণ)
৮, লিগ্যাল এন্ট্রি (বাস/ট্রেন/বিমানের টিকেট অথবা পর্তুগালে আসার ৭২ ঘন্টার মধ্যে হোটেলে ওঠার প্রমাণ পত্র)
৯, অভিবাসী যদি বাংলাদেশী হয় তাহলে বাংলাদেশের রিসেন্ট ক্রিমিনাল রেকর্ড সার্টিফিকেট (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স)।
১০, যদি বাংলাদেশ কিংবা পর্তুগালের বাহিরে অন্য কোন দেশে ১২ মাসের বেশি অবস্থান করেন ঐ দেশ/দেশগুলোর ক্রিমিনাল রেকর্ড সার্টিফিকেট (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স)।
১১, বায়োমেট্রিক ফি।
আপনার সকল ডকুমেন্টস সঠিক থাকলে সফলভাবে কোন জটিলতা ছাড়াই আপনার বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হবে। সফলভাবে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর ৭ দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আপনি TRP- টি আর পি (টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিট) পাবেন যার মেয়াদ হবে ২ বছর। দুই বছর পর আপনি TRP-টি আর পি নবায়ন করে নতুন করে তিন বছরের জন্য টিআরপি নিতে পারবেন। বৈধভাবে যখন একজন অভিবাসীর পাঁচ বছর পূর্ণ হবে তখন সে PRP-পি আর পি (পার্মানেন্ট রেসিডেন্স পারমিট) ও নাগরিকতার জন্য আবেদনের উপযুক্ত হবেন।
পর্তুগালে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশী অভিবাসীর সাথে কথা বলে জানতে পারা যায়, অনেক বাংলাদেশী অভিবাসী পর্তুগালে এসে সচেতনতার অভাব ও লোভে পড়ে দ্রুত প্রক্রিয়ায় বৈধ হওয়ার জন্য দালালের শরণাপন্ন হয়ে অনৈতক পন্থা অবলম্বন করে থাকেন। এতে যেমন ওই অভিবাসী নিজে বিপদে পড়েন তেমনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের সুনাম নষ্ট করেন।
ইতিমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীরা সুনামির সাথে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করতেছেন।
অভিবাসন প্রসঙ্গে পর্তুগালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, লিসবন সিটি ট্রাভেলসের কর্ণধার কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের আসাদ মজুমদার বলেন, পর্তুগাল যেমন অভিবাসীদের জন্য ভূস্বর্গ তেমনি ব্যবসার জন্য উপযুক্ত দেশ। পর্তুগাল টুরিস্ট নির্ভর দেশ হওয়ায় ট্যুরিজম ব্যবসা এখানে অনেক লাভজনক। যারা নতুন তাদের প্রতি আমার পরামর্শ আপনি যদি পর্তুগালে এসে ব্যবসা করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে ট্যুরিজম সেক্টরে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন। নতুন অবস্থায় পর্তুগীজ ভাষা না জানার কারণে অন্য ব্যবসা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। ট্যুরিজম সেক্টরে যেহেতু ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা যায় তাই শুরুর দিকে বিনিয়োগের জন্য ট্যুরিজম সেক্টর উপযুক্ত ও লাভজনক।
পর্তুগাল প্রবাসী বিমান প্রকৌশলী, মোহাম্মদ মাফুজের এর সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্তুগালে প্রকৌশলীদের অনেক চাহিদা ও কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেক বাংলাদেশী প্রকৌশলী পর্তুগালে এসে সঠিক পরামর্শ না পেয়ে অন্য সেক্টরে কাজ করতেছেন। এই ক্ষেত্রে প্রকৌশলী মাহফুজের পরামর্শ যারা বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি সম্পন্ন করে পর্তুগালে অভিবাসনের জন্য এসেছেন বা আসবেন তারা যেন আইইএফপি-IEFP (Instituto do Emprego e Formação Profissional) তে যোগাযোগ করেন এবং সাথে করে তাদের আপডেট সিভি নিয়ে যান।IEFP তে বিভিন্ন মেয়াদের ডিপ্লোমা কোর্স করারও সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সবার আগে পর্তুগীজ ভাষা শিখার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
পর্তুগাল প্রবাসী সিলেট গোলাপগঞ্জের, মোহাম্মদ আলীর সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি মালটাতে স্টুডেন্ট ভিসাতে এসে সেখান থেকে বৈধ অভিবাসনের জন্য পর্তুগালে এসেছেন। পর্তুগালে আসার পর তার ১৭ থেকে ১৮ মাস লেগেছে বৈধ কাগজপত্র হাতে পেতে। তার সাথে কথা বলে আরও জানতে পারা যায় পর্তুগালে এসে এত স্বল্প সময়ে বৈধ কাগজপত্র হাতে পেয়ে সে অনেক খুশি। তবে পর্তুগাল নিয়ে তার এত খুশির ভিতর একটি অভিযোগ হচ্ছে এখানে বেতন কাঠামো ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম আর অভিবাসন নীতি সহজ হওয়ায় সকল অবৈধ অভিবাসী পর্তুগালে আসার কারণে কাজের সংকট রয়েছে। তাই তার পরামর্শ হচ্ছে, যারা পর্তুগালে নতুন আসবে তারা যেন মিনিমাম তিন থেকে চার মাসের থাকা খাওয়ার খরচ নিয়ে আসেন।

